নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকালের অফিস টাইম থেকেই শহরের প্রায় সব ব্যস্ত সিগন্যালে লম্বা গাড়ির সাড়ি। অথচ সিগন্যাল যে লাল, তা নয়। যানবাহন চলাচলের জন্য সিগন্যাল খোলা থাকলেও, গাড়ির সংখ্যা বিস্তর। যানজট চলল সন্ধ্যা পর্যন্ত। অফিস থেকে ফেরার সময়ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা গণপরিবহণেই কাটল নিত্যযাত্রীদের। অটো পরিষেবা প্রধান রুট ছেড়ে অলিগলি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছল। দুর্ভোগ পরিস্থিতিতে ‘দোসর’ মেট্রোর জোড়া বিভ্রাট। সকালে ব্লু লাইন (দক্ষিণেশ্বর - শহিদ ক্ষুদিরাম) ও সন্ধ্যায় ইস্ট-ওয়েস্ট (হাওড়া ময়দান – সেক্টর ফাইভ) মেট্রো লাইন মিলিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা বিঘ্নিত হয়েছে ‘পাতাল-পরিষেবা’। জোড়া দুর্ভোগে নাকাল শহরবাসী।
সকালে ১১টা। ডায়মন্ড হারবার রোডে সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে। মোমিনপুর থেকে যানজট শুরু হয়েছে। গাড়ি লাইন পেরিয়ে গিয়েছে তারাতলা ব্রিজ। নিত্যযাত্রীদের বক্তব্য, ডায়মন্ডহারবার রোডের এই অংশের মাত্র ৮০০ মিটার পার হতেই ৪০ মিনিট বাসেই কাটাতে হয়েছে যাত্রীদের। একই চিত্র ছিল রাসবিহারী মোড়েও। সেখানেও নাকাল হয়েছেন শহরবাসী। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোডের প্রতিটি বড় সিগন্যালে গড়ে ৫-৬ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁদের। দক্ষিণের যানজট কাটিয়ে মধ্য কলকাতায় আরও বিপাকে পড়তে হয়েছে। এক্সাইড থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ গাড়িতেই কাটিয়েছেন যাত্রীরা। অদ্রিশ চট্টোপাধ্যায় নামে এক যাত্রীর কথায়, ‘এজেসি বোস রোড ক্রসিং থেকে ধর্মতলা পৌঁছতেই সময় লাগল প্রায় ৫০ মিনিট।’ লালবাজারের দাবি, আচমকাই এদিন শহরে গাড়ির ঘনত্ব বেড়ে যায়। তার জেরেই তীব্র যানজট হয়। যদিও এদিন দুপুরে কলেজ স্ট্রিট থেকে একটি রাজনৈতিক দলের মিছিল ছিল। যানজটের নেপথ্যে সেই মিছিলও।
এসপ্ল্যানেড যানজটের আরেকটা বড় কারণ, সকালে ব্লু লাইনে মেট্রোর ভোগান্তি। যাত্রীদের দাবি, দুপুর ১২টা বেজে ২০ মিনিট থেকে ৩টে পর্যন্ত শহরের লাইফ লাইনের পরিষেবা বিঘ্নিত থাকে। দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরামগামী একটি মেট্রো যাওয়ার পথে ট্র্যাকে ফাটল দেখা যায়। এম জি রোড স্টেশনে ঢোকার মুখে চালক সেই ফাটল লক্ষ্য করেন। সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী তিন ঘণ্টার জন্য দক্ষিণেশ্বর-দমদম ও শহিদ ক্ষুদিরাম-ময়দান রুটে বিক্ষিপ্তভাবে মেট্রো চলাচল করে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, দুপুর আড়াইটে নাগাদ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়। কিন্তু, যাত্রীদের কথায়, পরিষেবা স্বাভাবিক হতে প্রায় সন্ধ্যা গড়িয়ে যায়। সন্ধ্যায় ফের ৬টা ১১ মিনিট নাগাদ শিয়ালদহ থেকে করুণাময়ী পর্যন্ত মেট্রোর থার্ড লাইনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। যার জেরে প্রায় ঘণ্টাখানেক ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো পরিষেবা বিঘ্নিত হয়। ৭টা ১০ নাগাদ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়।