নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গোটা দেশে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা। ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টির জেরে বন্যা, ধস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের তুলনায় বজ্রপাতে মৃত্যু যে অনেক বেশি হচ্ছে সেই প্রবণতা গত কয়েকবছর ধরে দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বজ্রপাতের পূর্বাভাস সাধারণ মানুষ পান কি না বা পেলেও তা কতটা আগে পান সেই ব্যাপারে অনলাইন সমীক্ষা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের (আঞ্চলিক অফিসগুলিসহ) ওয়েবসাইট খুললেই এই সমীক্ষার পেজটি চলে আসছে। ইংরেজি, হিন্দি ছাড়াও বাংলাসহ সব প্রধান আঞ্চলিক ভাষায় সমীক্ষার উত্তরগুলি দেওয়ার সুযোগ থাকছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হচ্ছে তিনি বজ্রপাতের কোনও সতর্কতামূলক বার্তা পান কি না? পেলে কী মাধ্যমে সেটা পাচ্ছেন তা জানতে চাওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট, সামাজিক মাধ্যম, সংবাদ মাধ্যম প্রভৃতি আছে। বজ্রপাতের আগে না পরে কিংবা হওয়ার সময় সতর্কবার্তা আসছে, আগে পেলে তা কতটা আগে মিলছে, সেটাও নির্দিষ্টভাবে জানতে চাওয়া হচ্ছে।
কোন জেলায় বজ্রমেঘ সৃষ্টি হয়ে বজ্রপাতের আশঙ্কা তৈরি হলে তার সতর্কবার্তা কয়েকঘণ্টা আগে জারি করে আবহাওয়া দপ্তর। আরও ছোট এলাকা জুড়ে যাতে পূর্বাভাস দেওয়া যায় তার চেষ্টা চলছে। আবহাওয়া দপ্তরের নিজস্ব ‘দামিনী’ ও ‘মাসুম’ অ্যাপ, তাদের ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এই সতর্ক বার্তা ইস্যু করা হয়। সর্তকবার্তা পাঠানো হয় রাজ্যের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তরকে। আবহাওয়া দপ্তর ও বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তরের আধিকারিকরা বলছেন, বজ্রপাতের সতর্কবার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াটাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ মাঝে কয়েক ঘণ্টা বা তার থেকেও কম সময় থাকে। বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তর সাধারণ মানুষের মোবাইলে সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। মানুষকে বজ্রপাত নিয়ে সচেতন করার জন্য প্রচার চালানো হচেছ। এই পরিস্থিতিতে মানুষ সতর্কবার্তা কতটা পাচ্ছেন, সেটা সমীক্ষা চালিয়ে বুঝতে চাইছে আবহাওয়া দপ্তর। সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কয়েকদিন আগে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বজ্রপাতে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার আগেও বজ্রপাতে বেশ কয়েকটি মৃত্যু হয়েছে এরাজ্যে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষার আগে মার্চ-এপ্রিল মাসে বজ্রপাতের আশঙ্কা বেশি থাকে। চলতি বছরে এইসময়ে দেশের ১২টি রাজ্যে বজ্রপাতে রেকর্ড সংখ্যক ১৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা এইচ আর বিশ্বাস জানান, বর্ষাকালে বজ্রপাতের আশঙ্কা তুলনামূলক কম হলেও কোনও কোনও সময় বজ্রমেঘ সৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। আবহাওয়া দপ্তর আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে বজ্রপাতের আশঙ্কার পূর্বাভাস দিয়েছে।
এদিকে, এবারের বর্ষাকালে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির কোনও ঘাটতি না-থাকলেও উত্তরবঙ্গের ছাড়াও কয়েকটি রাজ্যে প্রচুর ঘাটতি আছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশিরভাগ অংশ, বিহার, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রের মারাঠাওয়াড়া, অন্ধ্রপ্রদেশের রায়লসীমা এর মধ্যে আছে। নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতির কারণেই এই ঘাটতি, বলছেন আবহাওয়াবিদরা।