Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

মারাদোনার অধরা স্বপ্নপূরণে মরিয়া মেসি

মারাদোনার অধরা স্বপ্নপূরণে মরিয়া মেসি
  • ১৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোমনাথ বসু: ইতালিয়া নাইন্টি। খোঁড়াতে খোঁড়াতে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্তিনা। নেপলসে আয়োজিত সেমি-ফাইনালে তারা হারিয়েছে ইতালিকেই। তারপর থেকেই আজ্জুরিদের কাছে ভিলেন মারাদোনা। কারণ, ওই ম্যাচের আগে দক্ষিণ ইতালির ফুটবলপ্রেমীদের তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা মাঠে আসুন। আমাদের সমর্থন করুন। উত্তর ইতালির জনগণ আপনাদের ঘৃণা করে। এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া দরকার।’

Advertisement

ফাইনালের দিন তিনেক আগে থেকেই মারাদোনা বিরোধী প্ল্যাকার্ড, পোস্টারে ছয়লাপ রোম। আর্জেন্তিনার অধিনায়কের বিভিন্ন নেতিবাচক কার্টুন ছাপা হচ্ছে সংবাদপত্রে। আর ক্ষোভে ফুঁসছেন বাঁ পায়ের জাদুকর। অপেক্ষা মাত্র একটি ম্যাচের। ফাইনালে জিতলেই দেওয়া যাবে জবাব। উলটোদিকে পশ্চিম জার্মানি। দলে রয়েছেন লোথার ম্যাথাউজ, জুরগেন ক্লিন্সম্যানরা। কিন্তু মারাদোনা আত্মবিশ্বাসী। ১৯৮৬’তে মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে তিনি কাপ ধরেছিলেন। চার বছর পর সেই ছবির পুনরাবৃত্তি হোক রোমের ওলিম্পিক স্টেডিয়াম, এটাই ডিয়েগোর একমাত্র চাহিদা। 
পারেননি মারাদোনা। ব্রেহমের পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদে সেবার রানার্স-আপ হয়েই থামতে হয় তাঁর আর্জেন্তিনাকে। শিল্পীর চোখের জলে ভিজেছিল ওলিম্পিক স্টেডিয়ামের ঘাস। ডিয়েগোর আক্ষেপের দিনে ইতালি অভিশাপ দিয়েছিল, তোমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। 
রবিবার নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে চলতি বিশ্বকাপের ফাইনাল। স্পেনের মুখোমুখি আর্জেন্তিনা। মারাদোনার উত্তরসূরি মেসি কি পারবেন টানা দু’বার দেশকে বিশ্বসেরা করতে? কাতারে তাঁর সৌজন্যেই প্রবল পরাক্রমী ফ্রান্সকে বশ মানিয়েছিল স্কালোনির দল। তারপর পেরিয়েছে সাড়ে তিন বছর। মেসি এখন ৩৯। ইউরোপ ছেড়েছেন বছর তিনেক আগেই। কিন্তু দেশপ্রেমে তিনি যে অতুলনীয়। তাই নক-আউট পর্বে দু’টি ১২০ মিনিটের ম্যাচ খেলা সত্ত্বেও এমএলটেন ক্লান্ত হন না। পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর অপর নামই এখন মেসি। বাকি আর একটি ম্যাচ। রবিবার স্পেনকে হারাতে পারলেই মারাদোনার অধরা স্বপ্নপূরণ হবে তাঁরই উত্তরসূরির বাঁ পায়ে। 
ইংল্যান্ডকে হারানোর পর মেসি বলেছেন, ‘এই জয় ডিয়েগোকে উৎসর্গ করলাম। জীবনের ওপার থেকে তিনি নিশ্চয়ই আমাদের পারফরম্যান্স উপভোগ করছেন। ফাইনালে উঠে তাঁর কথাই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে। ১৯৮৬’তে তাঁর জোড়া গোলেই আর্জেন্তিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল। আমরা সেই পথ অনুসরণ করেছি মাত্র।’
মেসি খুবই মেপে কথা বলেন। আগ বাড়িয়ে মন্তব্য তাঁর না-পসন্দ। কিন্তু আমেরিকার মাটিতে তিনি বিশ্বকাপ জিততে মরিয়া। লাওতারো মার্তিনেজ-এনজো ফার্নান্ডেজদের নিয়ে রবিবার তাঁর ‘লাস্ট ডান্স’। এবারের কাপ জিতে উত্তরসূরির অধরা স্বপ্নকে পূরণ করতে মরিয়া তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ