নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: জামা বা নামে বদল করলেই বিজেপি হওয়া যাবে না। হাতে বিজেপির পতাকা নিয়ে কারখানার গেটে গেলে তাদের লকআপে ভরার বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার বারাসতে পৃথক দুটি কর্মসূচিতে গিয়ে দলের কর্মীদের পাশাপাশি বিরোধীদেরও নিশানা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। শমীকের কথায়, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসায়ী বা শিল্প সংস্থার উপর চাপসৃষ্টি বরদাস্ত করা হবে না। গত ৪ মে সন্ধ্যার পর থেকেই ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটি উঠে গিয়েছে। বারাসতে কোথাও অনৈতিক কাজ হলে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
শমীকের বক্তব্য, আমরা ব্যবসায়ীদের উপর আক্রমণ হতে দেব না। এরপরই দলের অন্দরে ‘জার্সি বদল’ নিয়েও সতর্কবার্তা দেন তিনি। পুলিশের উদ্দেশে শমীক বলেন, নাম বা জামা বদলে কেউ যদি অতীতের পাপস্খলন করতে বিজেপির ছত্রছায়ায় আসতে চান, তাহলে ভুল করবেন। প্রশাসন যেন তাঁদের ‘এন্টারটেইন’ না করে। এখানেই থামেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। দুর্গাপুজোর মণ্ডপে রাজনৈতিক জার্সি বদলের ছবিকেও কটাক্ষ করেন তিনি। তিনি বলেন, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর অশীতিপর বাবা শিশির অধিকারীকে বারাসতের কয়েকজন একসময়ে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করতেন। এখন দেখা যাচ্ছে—পুজোমণ্ডপে তাঁরাই শুভেন্দুকে স্বাগত জানাচ্ছেন তাঁর ছবি হাতে নিয়ে! মানুষ এগুলি দেখেছে, আমরাও দেখেছি। এই পথে কেউ যাতে না-যায়, তার জন্য সকলকে চিহ্নিত করতে হবে।
এদিন বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেন শমীক। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস বলে এখন আর কিছু নেই। দলটি মৃত। আগামী লোকসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে তৃণমূলের একজনও নির্বাচিত হতে পারবেন না। এটাই কালের দেওয়াল লিখন। ওইসঙ্গে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং সিপিএমকে একসঙ্গে নির্বাচনে লড়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। আত্মবিশ্বাসী শমীকের দাবি, বিরোধীরা একজোট হয়েও বিজেপিকে আটকাতে পারবে না। রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে বিজেপিই জিতবে। নন্দীগ্রামে আমাদের জয়ের ব্যবধান হবে চারগুণ!