লখনউ: ফের খবরের শিরোনামে উত্তরপ্রদেশ। এবার এক মার্চেন্ট নেভি অফিসারকে খুনের অভিযোগ উঠল তাঁরই স্ত্রী ও প্রেমিকের বিরুদ্ধে। উত্তর প্রদেশের মিরাটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। খুনের পর মার্চেন্ট নেভি অফিসারের দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে প্লাস্টিকের ড্রামে রেখে সিমেন্ট দিয়ে সিল করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার বীভৎসতায় শিউরে উঠেছেন এলাকাবাসীরা। পুলিস সূত্রে খবর, মৃতের নাম সৌরভ রাজপুত। জেরায় উঠে এসেছে, তাঁর স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি ও স্ত্রী-র প্রেমিক শাহিল শুক্লা যৌথ ভাবে এই খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে।
জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সৌরভ ও মুসকান। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই সংসারে অশান্তি শুরু হয়। স্ত্রী-কে আরও সময় দিতে নেভি অফিসারের চাকরি ছেড়ে দেন সৌরভ। কিন্তু তাতেও সমস্যা মেটেনি। সংসারে শান্তি বজার রাখতে ২০১৯ সালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে একটি ভাড়া বাড়িতে ওঠে সে। তবে এখানেও বাঁধে অশান্তি। খুব শীঘ্রই সৌরভ জানতে পারে ‘পরকীয়া’ সম্পর্কে যুক্ত আছে মুসকান। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ডিভোর্সের বিষয়েও আলোচনা হতে শুরু করে। তবে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ফের একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন সৌরভ ও মুসকান। পরবর্তীতে পরিবারের ভবিষ্যৎ-এর কথা ভেবে ফের মার্চেন্ট নেভি অফিসারের চাকরিতে যুক্ত হন তিনি এবং ডিউটির খাতিরে বিদেশ পাড়ি দেন।
তবে গত মাসের ২৪ তারিখ মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে দেশে ফেরেন সৌরভ। আর তখনই তাঁকে খুনের ছক কষে স্ত্রী মুসকান ও তার প্রেমিক শাহিল। পুলিসের দাবি জেরায় দু’জনেই খুনের কথা স্বীকার করেছে। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে প্রথমে বেহুঁশ করা হয় সৌরভকে। এরপর তাঁকে খুন করে ধৃতরা। তাঁর দেহ ১৫ টুকরো করে একটি ড্রামে ভরে সেটিকে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে দেয় অভিযুক্তরা।
অন্যদিকে, সৌরভের পরিবারের লোক তাঁকে ১৫ দিন ধরে ফোনে না পেয়ে থানার দ্বারস্থ হয়। পুলিস তদন্তে নেমে সন্দেহের বশে অভিযুক্তদের পাকড়াও করে। আর তাদের জেরা করতেই উঠে আসে ভয়ঙ্কর সব তথ্য। যা চমকে দিয়েছে পুলিসকেও।