নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের কাণ্ডে ধুন্ধুমার কাণ্ড বেলুড়ে। পরপর পুড়ল ছ’টি গুমটি দোকান। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বেলুড়ের ধর্মতলা রোডে। অভিযোগ, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ সেন্টু মল্লিক দোকানগুলিতে আগুন দিয়েছে। যুবককে আটক করেছে বালি থানার পুলিশ।
বেলুড়ের ধর্মতলা রোডের পাশে পরপর অনেকগুলি অস্থায়ী গুমটি দোকান রয়েছে। সেখানে চায়ের দোকান, কোথাও চপ, শিঙাড়া বিক্রি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কয়েকটি দোকান দাউদাউ করে জ্বলতে দেখেন বাসিন্দারা। দোকানগুলি থেকে বৈদ্যুতিক তার বেরিয়ে এসে জ্বলছিল। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় দমকলে। একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। কিন্তু ততক্ষণে প্রায় ছ’টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দোকানের পাশাপাশি রাস্তার ধারে থাকা বৈদ্যুতিক মিটার বক্সেও আগুন লাগে। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিক তদন্তে দমকলের অনুমান, শর্ট সার্কিটের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা হতে পারে। দোকানের পাশে জড়ো করে রাখা আবর্জনায় কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। গুমটি দোকানের মালিকদের অভিযোগ, সেন্টু মল্লিক নামের স্থানীয় এক যুবক এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রায়দিনই তাকে ছুরি হাতে ঘুরতে দেখা যেত এলাকায়। এর আগেও সে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছিল। ভোর রাতেই যুবককে আটক করে নিয়ে যায় বালি থানার পুলিশ।
দোকানে আগুন লাগার কথা শুনে ছুটে আসেন সুখদেব পন্ডিত। প্রায় ৪০ বছর ধরে সেখানে ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন তিনি। মাথায় হাত দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুখদেববাবু। বলেন, ‘বাড়িতে ক্যান্সার রোগী রয়েছে। এই দোকানের উপরেই সবকিছু টিকে ছিল। সর্বনাশ হয়ে গেল।’ ক্ষতিগ্রস্ত আরেক ব্যবসায়ী জগন্নাথ দত্ত বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে ওই যুবক যে এমন কাণ্ড ঘটাবে কেউ বুঝতে পারিনি। এলাকায় আরও অনেক গুমটি দোকান রয়েছে। আমরা আতঙ্কে রয়েছি।’ পুলিশ জানিয়েছে, আটক হওয়া যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিন দুপুরে সিইএসসি কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুড়ে যাওয়া মিটার বক্সটি সারিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করেন। নিজস্ব চিত্র