নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ছ’ বছর হল লোকসভায় নেই ডেপুটি স্পিকার। কেন নেই? শীঘ্রই বিরোধীদের ডেপুটি স্পিকার পদ দিতে হবে। এই দাবিতে বৃহস্পতিবার বিরোধীরা সরব হল। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার চেম্বারে গিয়ে এ ব্যাপারে চাপ সৃষ্টি করলেন কংগ্রেসের গৌরব গগৈ, কে সি বেণুগোপাল, তৃণমূলের সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিএমকের এ রাজা, সমাজবাদী পার্টির ধর্মেন্দ্র যাদব, এনসিপি (এসপি)র সুপ্রিয়া সুলের মতো বিরোধী দলের সাংসদ। স্পিকারকে দেওয়া হল চিঠিও।
যদিও বিরোধীদের খালি হাতেই ফেরত পাঠিয়েছেন ওম বিড়লা। বল ঠেলে দিয়েছেন সরকারের দিকে। রাজনৈতিক সূত্রে খবর, বিরোধী দলের সাংসদদের তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে তাঁর কিছু করার নেই। এটা সরকারের ব্যাপার। সরকারই ঠিক করে ডেপুটি স্পিকার করা হবে কি না। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর প্রথম পাঁচ বছর ছিল ডেপুটি স্পিকার। পদ সামলেছিলেন জয়ললিতার দলের সাংসদ এম থাম্বিদুরাই। কিন্তু সেই শেষ।
২০১৯ থেকে নেই কোনও ডেপুটি স্পিকার। সাধারণত এই পদটি বিরোধীদের দেওয়া হয়। স্পিকার না থাকলে সভা চালান ডেপুটি স্পিকার। কিন্তু ২০১৯ সালে ওম বিড়লা স্পিকার হওয়ার পর থেকে ‘প্যানেল অব চেয়ার্স’ হিসেবে কয়েকজন সাংসদদে চিহ্নিত করে চলছে লোকসভা। যখন আসনে থাকেন না স্পিকার। তাই এবার ওই পদে নির্বাচনের দাবিতে বিরোধীরা এককাট্টা। স্পিকার খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়ায় এবার সরকারের ওপর চাপ বাড়ানো হবে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে কেন সংসদে বলতে দেওয়া হচ্ছে না? এই দাবিতেও স্পিকারে কাছে প্রতিবাদ জানাল বিরোধীরা। সাধারণ মানুষের ইস্যুতেও কেন বলতে দেওয়া হচ্ছে না? সেই প্রশ্নও করেছে বিরোধীরা। লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও বিরোধীরা ফের একজোট হয়েছে। দিল্লি নির্বাচনের সময় জোট অনেকটাই হালকা হয়ে গিয়েছিল। ফের একজোট হয়েছে। ভুয়ো ভোটার কার্ড নিয়ে আলোচনার দাবিতে বারবার নোটিস দিচ্ছে তৃণমূল। এদিনও দিয়েছিলেন। একইভাবে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রামজিলাল সুমনের বাড়িতে বিজেপি পন্থীদের হামলার অভিযোগেও সরব বিরোধীরা। তাই এদিন সভায় সবার হয়ে বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলবেন বলে ঠিক হয়। কিন্তু তাঁকে বলতে দেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ। তাই প্রতিবাদে রাজ্যসভা থেকে ‘ওয়াক আউট’ করে বিরোধীরা।