বিষ্ণুপদ রায়, হলদিবাড়ি: বিধানসভা নির্বাচনের ডঙ্কা বাজতেই কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের হলদিবাড়ি ব্লকে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। প্রচারের ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ও বামেরা কোমর বেঁধে নামলেও বর্তমানে প্রচারের কৌশলে ও জনমতের ঝোঁকে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী পরেশচন্দ্র অধিকারী। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মানুষের হৃদয়ে পৌঁছতে তিনি ব্যবহার করছেন এক অব্যর্থ হাতিয়ার রাজবংশী ভাষা।
হলদিবাড়ি ব্লকের গ্রামগুলিতে গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার প্রচার চালাচ্ছেন তৃণমূলের প্রার্থী। শিক্ষক ও পোড়খাওয়া এই রাজনীতিবিদ জানেন গ্রামের মানুষের আবেগ কোথায়। তাই ছোট ছোট সভা বা বাড়ির উঠোন বৈঠকে তিনি সাবলীলভাবে রাজবংশী ভাষায় কথা বলে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে একাত্ম হচ্ছেন। মেখলিগঞ্জের ভূমিপুত্র যখন রাজবংশী ভাষায় রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরছেন, তখন তা সহজেই গ্ৰামের মানুষের মনে জায়গা করে নিচ্ছে।
অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী দধিরাম রায়ও তাঁর সাধ্যমতো প্রচার চালাচ্ছেন। কিন্তু তৃণমূলের তুলনায় বিজেপির প্রচারের গতি ও ধরনে কিছুটা ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজবংশী ভোটব্যাংককে পাখির চোখ করলেও দধিরাম রায়ের প্রচারে স্থানীয় আবেগের সেই স্বতঃস্ফূর্ত ছোঁয়া তৃণমূলের তুলনায় কিছুটা কম বলে মনে করছেন ভোটারদের একাংশ।
যদিও বিজেপির দাবি, আমরাও গ্ৰামেগঞ্জে গিয়ে রাজবংশী ভাষায় কথা বলে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছি। তাঁদের কাছ থেকে ভালো সাড়া মিলছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজবংশী সমাজের মানুষেরা একত্রিত হয়ে মেখলিগঞ্জ বিধানসভায় পরিবর্তন করবে।
এবিষয়ে শাসকদলের প্রার্থী পরেশচন্দ্র অধিকারী জানান, গ্রামের দিকে প্রচারে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাঁকে নিয়ে উৎসাহ বাড়ছে। বিশেষ করে বয়স্ক পুরুষ ও মহিলা ভোটারদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা চোখে পড়ার মতো। রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরা হচ্ছে ভোটারদের কাছে।
এদিকে, বিজেপি প্রার্থী দধিরাম রায় জানান, গ্ৰামের সহজ-সরল মানুষ এবার পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে। তাঁরা বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন। মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন তাঁরাই।