প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বিধাননগর এবং বারাকপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা উন্নয়নে মেগা প্রকল্প হাতে নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, ৮৫০০ কোটি টাকা খরচ করে এই সুসংহত নিকাশি প্রকল্প বা ইন্টিগ্রেটেড ড্রেনেজ প্ল্যানের বাস্তবায়ন করবে রাজ্য। ২০১১ সালের সেন্সাস অনুযায়ী এই দু’টি এলাকার জনসংখ্যা ৪২ লক্ষ ৯০ হাজার ৬০৫। বর্তমানে তা বেড়ে অন্তত ৫০ লক্ষ হয়েছে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। তাঁরা প্রত্যেকে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। কারণ, এই প্রকল্প হয়ে গেলে এসব বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিনের নিকাশি সমস্যায় ইতি পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, বিধাননগর পুরসভা এলাকা এবং বারাকপুর মহকুমার ১৬টি পুরসভা অঞ্চলে এই উন্নত নিকাশি পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। সেই ১৬টি পুরসভা হল বরানগর, বারাকপুর, ভাটপাড়া, দমদম, গারুলিয়া, উত্তর দমদম, পানিহাটি, দক্ষিণ দমদম, টিটাগড়, হালিশহর, কামারহাটি, কাঁচরাপাড়া, খড়দহ, নৈহাটি, নিউ বারাকপুর এবং উত্তর বারাকপুর। নবান্নের নির্দেশে ইতিমধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে কেএমডিএ (কলকাতা মেট্রোপলিটান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি)। ইতিমধ্যে প্রাথমিক পরিকল্পনার কাজ শেষ হয়েছে বলে খবর। চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হবে ডিপিআর তৈরির কাজ। তা অনুমোদন পেলে বিশ্বব্যাংক বা এডিবির মতো সংস্থার সহযোগিতায় কাজ শুরুর জন্য পদক্ষেপ করা হবে।
কী কী কাজ হবে এই প্রকল্পের আওতায়? সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে বিধাননগরের বিভিন্ন এলাকা। দীর্ঘক্ষণ জল জমে থাকায় চূড়ান্ত সমস্যায় পড়তে হয় এলাকার বাসিন্দাদের। বর্ষাকালে চিংড়িঘাটা, করুণাময়ী, সল্টলেক সেক্টর ফাইভ, কেষ্টপুর ও সংলগ্ন এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে নিয়মিত। বারাকপুরের তালপুকুর, রুইয়া ও সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল, উত্তর দমদমের বিরাটি, নিমতা ও সংলগ্ন এলাকা, পানিহাটির পূর্বাঞ্চল এবং বি টি রোড সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমার ইতিহাস আছে। আবার বরানগর, দমদম, হালিশহরসহ বারাকপুর মহকুমা এলাকার বিভিন্ন পুরসভার নিকাশি ব্যবস্থা বহু পুরানো ও অপর্যাপ্ত। তাই দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা উন্নয়নের দাবি উঠছিল। পূর্বতন সরকারের আমলে, ২০২২ সালে এ বিষয়ে আলোচনাও হয়। তবে শেষমেশ আর কিছু হয়নি। পালাবদলের পর নয়া সরকার এনিয়ে কোমর বেঁধে নামছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন স্থাপন, নিকাশিনালা নির্মাণ, নিকাশি খাল সংস্কারের মতো কাজগুলি হবে। রাজ্যের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল ও নালায় পলি ও আবর্জনা জমে যাওয়া, ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের অপর্যাপ্ত ক্ষমতা, জলাশয় ভরাট এবং অবৈধ দখলের কারণে বৃষ্টির জল দ্রুত নামতে পারে না। এই বিষয়গুলি মাথায় রেখেই প্রয়োজনীয় নিকাশি পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। আরও জানা গিয়েছে, কালনাসহ বেশ কিছু এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেবে রাজ্য। ইতিমধ্যে, হাওড়া পুর এলাকায় এই সমস্যায় ইতি টানতে বৃহত্তর প্রকল্প গ্রহণ করেছে রাজ্য।