নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবশেষে উঠে গেল ব্যাংক ধর্মঘট। ফলে আজ সোমবার থেকে বন্ধ থাকছে না দেশের কোনো ব্যাংকই। সর্বত্রই স্বাভাবিক থাকবে পরিষেবা। ব্যাংক অফিসার ও কর্মীদের সংগঠনগুলির যৌথমঞ্চ ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাংক ইউনিয়নস (ইউএফবিইউ) এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। তাঁদের মূল দাবি ছিল, সপ্তাহে পাঁচদিন ব্যাংক পরিষেবা চালু রেখে প্রতি শনি ও রবিবার ব্যাংক বন্ধ রাখা। এর পাশাপাশি ইনসেনটিভ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মী ও অফিসারদের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা থাকার ইস্যুটিও ছিল ধর্মঘটে। রবিবার রাত সাড়ে ন’টায় ধর্মঘটী সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সংগঠন ইন্ডিয়ান ব্যাংকস অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ)। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ব্যাংক ও ধর্মঘটীদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি তৈরি করা হবে। শনিবারগুলি ব্যাংক বন্ধ রাখা যায় কি না, সেই বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে খতিয়ে দেখবে তারা। পাশাপাশি, বিভিন্ন স্তরের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে গ্রাহকদের মতামতও। তার পরেই সিদ্ধান্তে আসা যাবে।
অন্যদিকে, ইনসেনটিভ সংক্রান্ত অসামঞ্জস্যতা নিয়েও আলোচনা হবে। এছাড়াও ধর্মঘটের যে সমস্ত ইস্যু রয়েছে, আলোচনা হবে সেগুলি নিয়েও। এই সিদ্ধান্তগুলির পরই ধর্মঘট থেকে সরে আসার কথা ঘোষণা করে ইউএফবিইউ।
এদিকে, তিন দিনের ধর্মঘটের কথা মাথায় রেখে রবিবার রাষ্ট্রায়ত্ত ও গ্রামীণ ব্যাংকের শাখাগুলি খুলে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাংক। পাছে নগদে টান পড়ে বা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কাজ আটকে থাকে, তাই রবিবারই বহু গ্রাহক পৌঁছে যান ব্যাংকে। কলকাতার জনবহুল এলাকার একাধিক ব্যাংকে সকালে কাউন্টারে পরিষেবা চালুর আগেই গেটের বাইরে গ্রাহকদের লাইন পড়তে দেখা যায়। বেলা গড়ালেও কাউন্টারগুলিতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বয়স্ক ও পেনশনভোগীদের ভিড়ও ছিল যথেষ্ট। তবে ডালহৌসি চত্বর সহ অফিসপাড়ার বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় তেমন ভিড় দেখা যায়নি এদিন। কর্মীদের এদিন কালো ব্যাজ পরে পরিষেবা দিতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, সপ্তাহে পাঁচ দিন পরিষেবা চালু রাখার দাবিতে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাংক ইউনিয়নস। গত ১১ সেপ্টেম্বর একদিনের ধর্মঘটের পর এই তিন দিনের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। ধর্মঘটের ফলে শাখা বন্ধ থাকার আশঙ্কায় বেশিরভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য আগাম সতর্কবার্তা জারি করে। পাঠানো হয় এসএমএস। ধর্মঘটের আগেই গ্রাহকদের জরুরি লেনদেন সেরে ফেলতে এবং নগদের জন্য এটিএম ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল। যদিও টানা তিন দিন ব্যাংক বন্ধ থাকলে পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন গ্রাহকরা। শেষ পর্যন্ত ধর্মঘট উঠে যাওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন সকলে।