নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির জেরে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে। এই আবহেই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনার টেবিলে ফিরছে ভারত ও আমেরিকা। আজ মঙ্গলবার বৈঠক হবে। হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ও ভারতের মুখ্য আলোচনাকারী তথা বাণিজ্য মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ আগরওয়াল একথা জানিয়েছেন। সোমবার আগরওয়াল বলেন, দ্রুততার ভিত্তিতে ভারত ও আমেরিকা আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাবে। যদিও এব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। ট্রাম্পের সহযোগী তথা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সংক্রান্ত মার্কিন বাণিজ্য সহকারি প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ সোমবার রাতেই দিল্লিতে পৌঁছাচ্ছেন বলে খবর।
ভারতীয় পণ্যে শাস্তিমূলক শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। এর জেরে গত আগস্টে মার্কিন মুলুকে ভারতীয় পণ্যের রপ্তানি গত ন’মাসের মধ্যে তলানিতে পৌঁছেছে। এরইমধ্যে আলোচনার বার্তা দিয়ে ভারত সম্পর্কে সুর কিছুটা নরম করেছেন ট্রাম্প। তাঁর বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিবাচক জবাবও দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
যদিও ভারতের উপর চাপ বজায় রাখতে চাইছে ওয়াশিংটন। রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে আগেই ভারতের উপর বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। রুশ তেলের পর এবার মার্কিন ভুট্টা কেনার জন্যও নয়াদিল্লির উপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের হুঁশিয়ারি, তাঁদের দেশ থেকে ভুট্টা কিনতে অস্বীকার করলে মার্কিন বাজারে ব্যবসার সুযোগ হারাবে ভারত। শুল্কের হার না কমালে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে নয়াদিল্লিকে।
সপ্তাহখানেক আগেই নাভারো কড়া সুরে বলেছিলেন, বাণিজ্য আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে ভারতকে গুরুত্ব দিতে হবে। নাহলে তা দিল্লির পক্ষে ভালো হবে না। তিনি ভারতকে ‘শুল্কের মহারাজা’ বলেও তোপ দেগেছিলেন। তিনি দাবি করেন, ভারতে মার্কিন পণ্যে শুল্কের হার অন্য দেশের তুলনায় বেশ চড়া। এধরনের টানাপোড়েনের মধ্যে দু’দেশের বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।