সংবাদদাতা, সিউড়ি: সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের মর্গের পাশে জমে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। তার পাশ দিয়ে চলাফেরা দায় হয়ে উঠেছে। দ্রুত ওই আবর্জনা পরিষ্কার করার দাবি তুলছেন বিভিন্ন কাজে হাসপাতালে আসা মানুষরা।
সংবাদদাতা, সিউড়ি: সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের মর্গের পাশে জমে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। তার পাশ দিয়ে চলাফেরা দায় হয়ে উঠেছে। দ্রুত ওই আবর্জনা পরিষ্কার করার দাবি তুলছেন বিভিন্ন কাজে হাসপাতালে আসা মানুষরা।
সিউড়ি হাসপাতালের ময়নাতদন্তের ঘরের কাছেই একটি ফাঁকা জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে ফেলা হচ্ছে নানা ধরনের বর্জ্য পদার্থ। সেই আবর্জনা জমে জমে সৃষ্টি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, তীব্র গন্ধে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা যায় না। তাছাড়া মর্গে প্রতিদিনই মৃতের আত্মীয় পরিজনরা আসেন। গন্ধের কারণে তাঁরাও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না বলে অভিযোগ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ বর্জ্য ফেলা হয় কালো প্যাকেটে। রক্ত বা শরীরের বিভিন্ন টিসু জাতীয় বর্জ্য, ব্লাড ব্যাগ ফেলা হয় হলুদ প্যাকেটে, নীল প্যাকেটে ফেলা হয় প্লাস্টিকের বোতল। সিরিঞ্জ, ব্লেড, ছুরি, অ্যাম্পুল এই জাতীয় বর্জ্য ফেলা হয় ‘পাঙ্কচার প্রুফ কনটেনার’-এ। সময় মতো এই প্যাকেটগুলো গুরুত্ব অনুযায়ী পৃথক পৃথকভাবে নিয়ে যাওয়া হয়। সিউড়ি জেলা হাসপাতালে বর্জ্য কীভাবে জমল তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। চিকিৎসকদের থেকে জানা গিয়েছে, রক্তমাখা তুলো, গজ, সিরিঞ্জের মতো চিকিৎসা বর্জ্য পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের পক্ষে যথেষ্ট ক্ষতিকারক। নির্দিষ্ট উপায়ে এই ধরনের আবর্জনা নষ্ট করতে হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের মূল দু’টি ভবন থেকে বেশ খানিকটা দূরে আবর্জনা ফেলার জায়গাটি। রোগীর আত্মীয়রা খুব একটা ওই রাস্তা ব্যবহার করেন না। তবে, ওয়ার্ড মাস্টারের অফিস, ময়নাতদন্তের জন্য আশা লোকজন, অ্যাম্বুলেন্স চালক থেকে শুরু করে অনেকেই ওই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। বুধবার সকালে হাসপাতালের আবর্জনা ফেলার জায়গায় গিয়ে দেখা গেল, আবর্জনাগুলি ঠিক রাস্তার পাশেই ফেলা হয়েছে। সেই আবর্জনাগুলির উপর গোরু, কুকুর, কাক চড়ে বেড়াচ্ছে। তীব্র গন্ধে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা দায়। নাকে কাপড় বা রুমাল দিয়ে পারপার করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।যাতায়াতকারী মানুষদের অভিযোগ, এগুলি সব হাসপাতালের মেডিকেল বর্জ্য। সাধারণ বর্জ্য পদার্থের থেকে এগুলি অনেক বেশী ক্ষতিকারক। হাসপাতালের এইসব বর্জ্য মানুষের চরম ক্ষতি করতে পারে। ছড়াতে পারে ইনফেকশনও। তাই নিয়মিত পরিষ্কার হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় মহম্মদ আমিন, শেখ ইমরানরা বলেন, প্রচণ্ড গন্ধ বেরচ্ছে। আবর্জনা ধীরে ধীরে রাস্তার উপর চলে আসবে বলে মনে হচ্ছে। হাসপাতালে এরকম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হলে তো মুশকিল। নিয়মিত এই আবর্জনা পরিষ্কার হওয়া দরকার। হাসপাতালের সুপার প্রকাশচন্দ্র বাগ বলেন, কিছুদিন আগেই পরিষ্কার করা হয়েছিল। আমি ডেপুটি সুপারকে বলেছি। খুব শীঘ্রই পরিষ্কার করে দেওয়া হবে। -নিজস্ব চিত্র