নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মহিলা জ্যোতিষীকে ধর্ষণের অভিযোগে পাঞ্জাব থেকে গ্রেপ্তার ফাইনাল ইয়ারের মেডিকেল ছাত্র। মানিক জালান নামে অভিযুক্তকে পাঞ্জাবের জলন্ধর থেকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার কলকাতায় নিয়ে এল নেতাজিনগর থানা। তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও ধর্ষণসহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করেছে পুলিশ। তরুণী জ্যোতিষীর মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অ্যাপের মাধ্যমে তরুণী জ্যোতিষীর সঙ্গে চলতি বছরের শুরুতে পরিচয় হয় ওই মেডিকেল ছাত্রের। তার জন্ম তারিখ পাঠিয়ে ওই জ্যোতিষীর কাছে জন্মছক তৈরি করে। সেখানে মেডিকেল পড়ুয়ার নিজের কেরিয়ারে কীভাবে উন্নতি করবে তা নিয়ে বিভিন্ন মতামত নেয়। ভিডিয়ো কলে দুজনে কথা হত। দুজনের সম্পর্ক গভীর হয়। জ্যোতিষীকে উত্তরাখণ্ডে আসতে বলে তরুণ।
তিনি সেখানে পৌঁছলে বেড়ানোর নাম করে হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। বিয়ে করবে বলে তরুণী বিষয়টি কাউকে জানাননি। পরে অভিযুক্ত কলকাতায় এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করে। এখানে একটি হোটেলে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এরপর তাঁকে পাঞ্জাবে ডেকে পাঠায় ওই তরুণ। সেখানে হোটেলে নিয়ে গিয়ে আবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর তরুণী বিয়ের কথা বললে এড়িয়ে যেতে থাকে অভিযুক্ত। তরুণী চাপ দিলে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখায়। নির্যাতিতাকে এড়াতে শুরু করে যুবক। তাঁর ফোন ধরা বন্ধ করা দেয়। এরপরই ওই তরুণী জ্যোতিষী নেতাজিনগর থানায় মাস চারেক আগে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও ধর্ষণের কেস রুজু করে। পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, অভিযুক্তের বাড়ি জলন্ধরে। সেখানকার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্র। এরপরই থানার টিম জলন্ধর পৌঁছে তাকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার ভোরে কলকাতায় নিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার তাকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সাজ্জাদ আলি খান বলেন, নির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ রয়েছে। তাই পুলিশি হেপাজতের দরকার।