Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাতে খোলা থাকে না ওষুধের দোকান, হয়রান শহরবাসী

রাতে খোলা থাকে না ওষুধের দোকান, হয়রান শহরবাসী
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ১১:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পতিরাম: রাত ১০টা বাজলেই ঝাপ বন্ধ হয়ে যায় শহরের ওষুধের দোকানগুলির। ১১টা বাজলে দু’একটা ওষুধের দোকান খোলা থাকলেও তারপর আর কোথাও মেলে না ওষুধ। এমনকী রাতবিরেতে জীবনদায়ী ওষুধের প্রয়োজন হলেও হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াতে হয়। কখনও কখনও মধ্যরাতে ওষুধের দোকানের মালিক কিংবা ডিস্ট্রিবিউটরকে ফোন করে ওষুধ সংগ্রহ করতে হয়। সাধারণ মানুষের ভরসা বালুরঘাট হাসপাতালের নায্যমূল্যের ওষুধের দোকান। দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা চলছে জেলার সদর শহর বালুরঘাটে। তাই রাতে শহরে কমপক্ষে একটি ওষুধের দোকান খোলা রাখার দাবি উঠছে। ওষুধের দোকান মালিকদের দাবি, নিরাপত্তা পর্যাপ্ত হলেই রাতে দোকান খোলা রাখা হবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর।

Advertisement

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস বলেন, এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। তবে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের ভিতরে ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকান ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে।
বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিডিএ) বালুরঘাটের সম্পাদক সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, বিগত দিনে আমরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম। রাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকে না। রাতে মদ্যপদের অত্যাচার থাকে। টাকা নিয়ে মারধর পর্যন্ত হয়েছে। এছাড়া রাতে স্টাফ রাখা ও ফার্মাসিস্ট থাকা নিয়েও সমস্যা রয়েছে। তবে আমরা অনেকদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছি রাতে শহরে কিছু ওষুধের দোকান খোলা রাখার।
বালুরঘাট হাসপাতালের কাছে হাসপাতাল মোড় এবং রঘুনাথপুরে বহু ওষুধের দোকান রয়েছে। সারাদিন সমস্ত দোকান খোলা থাকলেও রাতে বন্ধ হয়ে যায়। গোটা শহরেও একই চিত্র। তহবাজার, বড়বাজার, বাসস্ট্যান্ড, দিপালীনগর, থানা মোড়, কলেজ মোড়, চকভৃগু সব জায়গাতেই রাত হলে দোকান বন্ধ হয়ে যায়। 
শহরের এক বাসিন্দা রিপন কুণ্ডু বলেন, বুধবার রাতে হঠাৎ শরীরে অ্যালার্জি দেখা দেয়। শহরজুড়ে বাইক নিয়ে ঘুরে একটি ওষুধের দোকানও খোলা পাইনি। অবশেষে হাসপাতালে গিয়ে জরুরি বিভাগ থেকে ইঞ্জেকশন নিয়ে বাড়ি ফিরি। যে সমস্যায় একটি ওষুধ হলেই স্বস্তি পেতাম কিন্তু সেজন্য কতটা হয়রানি হতে হল! তাই রাতে কিছু দোকান খোলা রাখার আর্জি জানাই। আর এক বাসিন্দা প্রদীপ পাল বলেন, আগে ওষুধের দোকান খোলা থাকত। তাই বাড়ির কাছেই পেয়ে যেতাম। যেহেতু হাসপাতাল শহরের প্রবেশের পথেই। তাই শহরের মূল কেন্দ্র থেকে যেতে অনেকটাই সময় লাগে। তাছাড়াও হাসপাতালে ন্যায্যমূল্যের দোকানে সব ধরনের ওষুধ পাওয়া যায় না। তাই আমাদের মতো শহরবাসীর খুব সমস্যা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ