নয়াদিল্লি: গ্রামাঞ্চলে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার অভাব। বেতনও তুলনামূলকভাবে কম। তাই যেতে চান না চিকিৎসকরাও। বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাহলে উপায়? কেন্দ্রীয় সরকার ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করেছিল, ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (আইএএস) ও ইন্ডিয়ান পুলিস সার্ভিসের (আইপিএস) ধাঁচে গড়ে তোলা হবে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল সার্ভিস (আইএমএস)। সেই ক্যাডাররাই দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রশাসনিক যাবতীয় কর্মকাণ্ড সামাল দেবেন। কিন্তু দশ বছর আগের সেই গালভরা ঘোষণাই সার। আইএমএস গড়ার উদ্যোগ বিশ বাঁও জলে।
‘ডেডিকেটেড সেন্ট্রাল হেল্থ ফোর্স’ গড়ে তোলার মূল প্রস্তাবটি অবশ্য সাড়ে পাঁচ দশকেরও পুরনো। সেই প্রস্তাবই বাস্তবায়িত করতে ২০১৫ সালে ক্যাডার রিভিউ কমিটি গড়েছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রক। তথ্যের অধিকার আইনে (আরটিআই) করা এবিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সম্প্রতি মোদি সরকার জানিয়েছে, ২০১৯ সালের পর ওই রিভিউ কমিটির আর কোনও বৈঠকই হয়নি। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তরফেও বিষয়টি বহুবার তোলা হয়। যদিও কেন্দ্রের তরফে জবাব আসে, ‘এই ইস্যুটি এখনও বিবেচনার পর্যায়ে রয়েছে।’ স্বাভাবিকভাবে এবিষয়ে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে তৈরি হচ্ছে সংশয়।
আরটিআই আবেদনটি করেছিলেন তথ্যাধিকার কর্মী তথা চিকিৎসক আমন কৌশিক। স্বাস্থ্যমন্ত্রক থেকে তাঁকে বলা হয়েছে, ‘বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। আলোচনার জন্য সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কাছে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে।’ ২০১৯ সালের জুলাই মাসের পর থেকে কতগুলি রাজ্য তাদের মতামত জানিয়েছে? স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ১২টি রাজ্যের মতামত মিলেছে। চিকিৎসক আমন কৌশিকের প্রশ্নগুলির জবাব এসেছে গত ২৮ মার্চ। জবাব দিয়েছেন ২০০৫ সালের আরটিআই আইনের ধারা ১৯ (১)-এর অধীনে ডেপুটি সেক্রেটারি ও ফার্স্ট অ্যাপিলেট অথরিটি চিকিৎসক নবীন আগরওয়াল। বলা হয়েছে, ‘এবিষয়ে ২০১৫ সালে একটি কমিটি গড়া হয়েছিল। ২০১৯ সালের পর কমিটির আর কোনও বৈঠক হয়নি।’
আরটিআই আবেদনকারী চিকিৎসক আমন কৌশিক বলেন, ‘১৯৬০ সাল থেকে বহু কমিটিই ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল সার্ভিস ক্যাডার গড়ে তোলার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এবিষয়ে বিন্দুমাত্র অগ্রগতি হয়নি। বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো।’ ঘটনাচক্রে স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এরকম একটি সেন্ট্রাল ক্যাডারের অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু ১৯৪৭ সালের আগস্টে তার অবলুপ্তি ঘটে। কৌশিক বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলি প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন আইএএস অফিসাররাই। তাঁরা ইউপিএসসি পরীক্ষায় পাশ করে আসেন ঠিকই। কিন্তু আমাদের জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত অফিসারই প্রয়োজন। প্রশ্ন হল, ডাক্তাররা গ্রামাঞ্চলে গিয়ে কাজ করতে রাজি হন না কেন? এর কারণ হল প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও সুযোগ সুবিধার অভাব এবং অপেক্ষাকৃত কম বেতন। যদি ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল সার্ভিস ক্যাডার গড়ে তোলা যায় ও তাঁরা যদি আইএএসদের মতো সুযোগ-সুবিধা পান, তাহলে গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় উন্নতি আনা সম্ভব। সেক্ষেত্রে বহু ডাক্তারই গ্রামে গিয়ে চিকিৎসা করতে রাজি হবেন।’