Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

রোগীমৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তদন্ত কমিটি গড়ল মেডিকেল কর্তৃপক্ষ

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীমৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

রোগীমৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তদন্ত কমিটি গড়ল মেডিকেল কর্তৃপক্ষ
  • ১২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাঁচদিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

Advertisement

শুক্রবার সন্ধ্যায় বাগডোগরার খুদিরামপল্লির বাসিন্দা মুকুল বর্মন (৫৩) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, দুপুর প্রায় ২টায় অসহ্য পেটব্যথা নিয়ে তাঁকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। সেখান থেকে মেল মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলেও দীর্ঘ সময় কোনো চিকিৎসক রোগীকে দেখতে আসেননি।
মৃতের মেয়ে উষা বর্মনের অভিযোগ, বাবার যন্ত্রণার কথা জানিয়ে বারবার নার্সদের মাধ্যমে চিকিৎসকদের ডাকতে অনুরোধ করা হলেও, তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তাঁর দাবি, বিকেল প্রায় ৫টা নাগাদ বাবার মৃত্যু হলে তড়িঘড়ি চিকিৎসক ও নার্সরা এসে অক্সিজেন দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তখন আর কিছুই করার ছিল না। পরিবারের অভিযোগ, বিনা চিকিৎসায় তাঁদের বাবার মৃত্যু হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ঘটনার পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, সংকটজনক রোগীদের জরুরি বিভাগে প্রাথমিকভাবে স্থিতিশীল না করে দ্রুত ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে রোগীর চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হচ্ছে এবং রোগীর পরিজনদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
অন্যদিকে, হাসপাতালের সুপার ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, মৃতের পরিবারের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানের কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়। 
প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, রোগীকে জরুরি বিভাগ থেকে এসডব্লুসি ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল। সুপার জানান, মুকুল বর্মনের আগে গলব্লাডারের অস্ত্রোপচার হয়েছিল এবং তিনি তিনদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছিলেন। পেটব্যথা শুরু হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে পরিবারের অনুরোধে তাঁকে মেডিসিন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। সেই সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
সুপার বলেন, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচদিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ