Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

মেয়াদউত্তীর্ণ স্যলাইন! মেদিনীপুর মেডিকেলের পাঁচ কর্মী, আধিকারিককে শো-কজের নোটিস

মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে মেয়াদউত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহারের অভিযোগে ৫ কর্মী ও আধিকারিককে শো-কজ নোটিস। স্বাস্থ্য দপ্তরের তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পড়ুন।

মেয়াদউত্তীর্ণ স্যলাইন! মেদিনীপুর মেডিকেলের পাঁচ কর্মী, আধিকারিককে শো-কজের নোটিস
  • ১২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে আরও জোরালো হল প্রশাসনিক তৎপরতা। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর হাসপাতালের পাঁচ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী ও আধিকারিককে শো-কজ নোটিস পাঠাল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। শুক্রবার গভীর রাতেই স্বাস্থ্য ভবনের এই নির্দেশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়।

Advertisement

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এক সিস্টার ইনচার্জ, একজন স্টাফ নার্স, অ্যাডিশনাল মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট, অতিরিক্ত হাসপাতাল সুপার এবং স্টোরের দায়িত্বে থাকা আধিকারিককে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে। ওই দিনের ঘটনায় কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন রোগীর শরীরে ঢুকল এবং কোথায় ত্রুটি ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে স্বাস্থ্য ভবন।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার। অভিযোগ, মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মানসী দে নামে এক রোগীকে ভুলবশত মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি সামনে আসতেই পরদিন স্বাস্থ্যভবন তিন সদস্যের এক তদন্তকারী দল পাঠায়। প্রতিনিধিরা হাসপাতালের স্যালাইন সংরক্ষণ, স্টক রক্ষণাবেক্ষণ, বিভিন্ন ওয়ার্ডে তা সরবরাহের পদ্ধতি এবং নজরদারির পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট স্বাস্থ্যভবনে  জমা দেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই শো-কজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোগীর পরিবারের দাবি, শুধু শো-কজ করেই দায় শেষ করা যাবে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে তাঁদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, অবহেলার কারণেই বারবার এমন ঘটছে। 
মেদিনীপুর মেডিকেলে স্যালাইন নিয়ে বিতর্ক পুরানো। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও স্যালাইন দেওয়ার পর পাঁচ প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই ঘটনায় এক প্রসূতির মৃত্যু হয় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আরও চার জনকে গ্রিন করিডর করে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে আরও এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। যদিও বাকি রোগীরা পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। সেই ঘটনায় এক নবজাতকেরও মৃত্যু হয়েছিল। যা নিয়ে গোটা রাজ্যে তোলপাড় পড়ে যায়। এদিন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, আগে এই ধরনের অপকর্মের কোনো তদন্ত  হত না।  বরং দোষীদের বাঁচানোর চেষ্টা হত। রাজ্যে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠার পর প্রশাসন সক্রিয় হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গোটা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ মেনে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ