সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের ‘বন্দে ভারত’-এর সাধারণ স্লিপার চলবে ২৫ বছর আগে সিএলডব্লুতে তৈরি হওয়া রেল ইঞ্জিনে। ২০০০ সালে এই কারখানায় তৈরি হয় ডব্লুএপি-৫। সাড়ে পাঁচ হাজার হর্সপাওয়ারের এই ইঞ্জিন সেই সময় প্রস্তুত করা হতো রাজধানী, শতাব্দীর মতো দ্রুত গতির ট্রেন চালানোর জন্য। এত বছর পর সেই ইঞ্জিনগুলি ফিরে আসছে চিত্তরঞ্জনের ওয়ার্কশপে। আয়তাকার রেলইঞ্জিনের খোল পাল্টে তাতে অ্যারোডাইনামিক বন্দে ভারত এক্সেপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনের রূপ দেওয়া হয়েছে। কিছু বাড়তি বৈশিষ্ট্য যোগ করে গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘অত্যাধুনিক ইঞ্জিন’। চলতি বছর দেশজুড়ে সবচেয়ে দ্রুতগামীর ট্রেন ‘বন্দে ভারত’ চালানো নিয়ে ঢাকঢোল পেটাচ্ছে মোদি সরকার। অথচ, আড়াই দশক আগে বাংলার মাটিতে তৈরি হওয়া রেল ইঞ্জিনই সেই ‘বন্দে ভারত’-এর ভরসা। স্বাভাবিকভাবে বিষয়টি বিজেপি সরকারের আরও একটি জুমলা বলে দাবি করছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
Advertisement
সিটু অনুমোদিত সিএলডব্লু লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজীব গুপ্ত বলেন, ‘প্রায় তিন দশক আগে যে ইঞ্জিন আমরা তৈরি করেছিলাম। তাই এখন নতুন রূপ দিয়ে বন্দে ভারত সাধারণ স্লিপার হিসেবে চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমাদের এখান থেকে চারটি ইঞ্জিনের রিমডেলিং করা হয়েছে।’ সিএলডব্লুর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক উত্তমকুমার মাইতি বলেন, ‘আমাদের এখানে ১০০টি ডব্লুএপি-৫ ইঞ্জিনে অ্যারোডাইনামিক খোল লাগানো হচ্ছে। ২০০০ সালে এখান থেকেই এই রেল ইঞ্জিনগুলি তৈরি হয়েছিল। এতে রিয়েল টাইম ইনফর্মেশন সিস্টেম ও ক্রু ভয়েস ভিডিও রের্কডিং সিস্টেম যুক্ত করা হচ্ছে। এটা রেলের ব্যয় সঙ্কোচনও করবে।’ ভারতীয় রেলের ক্ষেত্রে মোদি জমানা সবচেয়ে বড় কাজ বন্দে ভারত এক্সেপ্রেস চালানো—এমনই দাবি করে আসছে বিজেপি। এবার বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালিয়ে নতুন করে হাততালি পাওয়ার চিত্রনাট্যও তৈরি হচ্ছে। সেই বন্দে ভারতের ইঞ্জিন তৈরি হচ্ছে চিত্তরঞ্জনেরই। তার চেয়েও বড় কথা হল, কোনও নতুন ইঞ্জিনে নয়। বন্দে ভারত ছুটবে কংগ্রেস আমলে তৈরি হওয়া ডব্লুএপি-৫ ইঞ্জিনেই। বিষয়টি সামনে আসতেই বিড়ম্বনায় পড়েছেন শিল্পাঞ্চলের পদ্মনেতারা।
সিএলডব্লুর এক প্রবীণ আধিকারিক বলেন, ‘এখানে তৈরি ডব্লুএপি-৫ ইঞ্জিনে সামনে চারটি ও পিছনে চারটি চাকা থাকে। একে আমরা বোবো ইঞ্জিন বলতাম। পরে আমরা আরও আধুনিক ইঞ্জিন ডব্লুএপি-৭ বানাই। কোকো নামের এই ইঞ্জিন ৬ হাজার হর্সপাওয়ারের। সামনে পিছনে ছ’টি করে ১২টি চাকা থাকত। ২০০০ সালে রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে আরও একটি আধুনিক রেল ইঞ্জিনের উদ্বোধন করেন। আমাদের সময়ে নতুন প্রযুক্তির ইঞ্জিন তৈরি করে যাত্রী সুবিধা বাড়িয়ে তোলা হতো। এখন ঢাকঢোল পিটিয়ে সেই পুরনো ইঞ্জিনকে দেশের আধুনিক ট্রেন পরিষেবায় ব্যবহার করতে হল! ভাবতে অবাক লাগছে।’
চিত্তরঞ্জনের আইএনটিইউসি নেতা নেপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘বন্দে ভারত মোদির জুমলা ছাড়া কিছু নয়, তা প্রমাণ হয়ে গেল সিএলডব্লুতেই। এত বছর আগে কংগ্রেস আমলে আমাদের তৈরি ইঞ্জিন দিয়েই তাঁকে চালাতে হবে তাঁর স্বপ্নের বন্দে ভারতকে।’
সিএলডব্লুর এক প্রবীণ আধিকারিক বলেন, ‘এখানে তৈরি ডব্লুএপি-৫ ইঞ্জিনে সামনে চারটি ও পিছনে চারটি চাকা থাকে। একে আমরা বোবো ইঞ্জিন বলতাম। পরে আমরা আরও আধুনিক ইঞ্জিন ডব্লুএপি-৭ বানাই। কোকো নামের এই ইঞ্জিন ৬ হাজার হর্সপাওয়ারের। সামনে পিছনে ছ’টি করে ১২টি চাকা থাকত। ২০০০ সালে রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে আরও একটি আধুনিক রেল ইঞ্জিনের উদ্বোধন করেন। আমাদের সময়ে নতুন প্রযুক্তির ইঞ্জিন তৈরি করে যাত্রী সুবিধা বাড়িয়ে তোলা হতো। এখন ঢাকঢোল পিটিয়ে সেই পুরনো ইঞ্জিনকে দেশের আধুনিক ট্রেন পরিষেবায় ব্যবহার করতে হল! ভাবতে অবাক লাগছে।’
চিত্তরঞ্জনের আইএনটিইউসি নেতা নেপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘বন্দে ভারত মোদির জুমলা ছাড়া কিছু নয়, তা প্রমাণ হয়ে গেল সিএলডব্লুতেই। এত বছর আগে কংগ্রেস আমলে আমাদের তৈরি ইঞ্জিন দিয়েই তাঁকে চালাতে হবে তাঁর স্বপ্নের বন্দে ভারতকে।’



