সানি বাগ, কলকাতা: এতদিন সাধারণ মানুষের কাছে ইউপিআই পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হতো। তবে সম্প্রতি সেই নিয়মে বদল এসেছে। মার্চেন্ট পেমেন্টে গুনতে হবে মাশুল, জানিয়েছে এনপিসিআই। ব্যবসায়ীদের কাছে এখনও পুরোপুরিভাবে সেই বিষয়টি পরিষ্কার না হলেও। ব্যবসায় ক্ষতি হবে মনে করছেন বহু ছোট-বড় বিক্রেতা। অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার বলছেন, কোনো লেনদেন যদি ২০০০ টাকার বেশি হয় এবং তা কোনো বাণিজ্যিক সংস্থার সঙ্গে হয় তাহলে একটা কর বসছে। যদি ব্যক্তিগত কোনো লেনদেন করা হয় সেক্ষেত্রে কোনো কর নেই। এবং এই এমডিআর দেওয়ার দায়িত্ব বিক্রয়কারী সংস্থার।
ইউপিআইতে এবার থেকে গুনতে হবে এমডিআর, ২০০০ টাকার বেশি কেনাকাটায় গুনতে হবে মাশুল। বড় ঘোষণা করেছে এনপিসিআই। ১৫ অক্টোবর থেকে এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। যেখানে মার্চেন্ট পেমেন্টে ০.৪% এমডিআর বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট চাপানোর কথা জানিয়েছে ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া। তারা জানিয়েছে কোনো ব্যবসায়ী বা মার্চেন্টের কাছে থেকে ২ হাজার টাকা কিংবা লেনদেনের পরিমাণ তার বেশি হলে একটা চার্জ দিতে হবে।
এমন বহু ব্যবসায়ী মনে করছেন, এই এমডিআর চার্জের কারণে খুব একটা বেশি ক্ষতি হবে না। তবে আবার অনেক ব্যবসায়ী যদিও পুরোনো নিয়ম যেন থাকে সেই কথাও বলছেন। আবার অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, সবথেকে ভালো ছিল নগদে লেনদেন। এত সমস্যাই ছিল না। অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার জানান, যে বিক্রয়কারী সংস্থা এই করটা দিচ্ছে, তারা হয়তো বাড়তি করের বোঝাটা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেবে। কীভাবে চাপাবে? জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে চাপাবে। যদিও এই প্রশ্ন থেকেই যায়, সামনেই পুজো আর সেখানে ক্রেতাদের কাছে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কোথাও একটা চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে উঠবে না বাজারে টিকে থাকতে? এই বিষয়ে এক বিক্রেতা জানান, প্রতিযোগিতার বাজার, সেখানে ক্রেতা হাতছাড়া হয়ে যাবে যদি দাম বাড়ানো হয়। তাছাড়া নগদে লেনদেনও সম্ভব নয়, কারণ আজকের দিনে সকলেই ইউপিআই ব্যবহার করে। সুতরাং কোথাও গিয়ে একটা চ্যালেঞ্জ তো থাকছেই। তাই যা ক্ষতি হওয়ার আমাদেরই হবে।
একটা কর বসালে তা কীভাবে ফাঁকি দেওয়া যায়, সেগুলো চলে আসে। সেক্ষেত্রে ২০০০-এর বেশি টাকার বিল হলে ভেঙে ভেঙে বিল করার প্রবণতাও দেখা যেতেই পারে পরবর্তীতে, দাবি করছেন অভিরূপ সরকার। তিনি আরও বলেন, সরকার বলছে নানা রকমের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে এই চার্জের বোঝা ঘুরপথে ক্রেতাদের ঘাড়ে এসে না পড়ে। কিন্তু এখনও পরিষ্কার নয়, কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে অতিরিক্ত এই চার্জ চাপানোর ফলে ফের কি বাজারে নগদে লেনদেনের পরিমাণ বাড়বে? ব্যবসায়ীদের অনেকের কাছে নগদে লেনদেন সুবিধার হলেও ক্রেতাদের কাছে খুব একটা স্বস্তির একেবারেই নয়। তবে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ভবিষ্যৎ কী? এখন সেটাই দেখার।