Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মদের বোতল ভেঙে ঢোকানো হল ক্যান্সার আক্রান্তের ছেলের পিঠে

মদের বোতল ভেঙে ঢোকানো হল ক্যান্সার আক্রান্তের ছেলের পিঠে
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বাড়িতে ক্যান্সার আক্রান্ত প্রৌঢ় রোগযন্ত্রণায় ছটফট করছেন। পাশেই পিকনিকের আসরে তারস্বরে বাজছে ডিজে। আর ডিজের কান ফাটানো আওয়াজে প্রাণান্তকর অবস্থা প্রৌঢ়ের। প্রতিবাদ করায় মদের বোতল ভেঙে ক্যান্সার আক্রান্তের ছেলের পিঠে ঢুকিয়ে দিল পিকনিকে আসা দুষ্কৃতীরা। ভাঙা হয় টালির চালা। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের আলুয়াচক গ্রামে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ক্যান্সার আক্রান্তের স্ত্রী এনিয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে তমলুক থানায় এফআইআর করেছেন। তমলুক থানার আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে।
Advertisement
জানা গিয়েছে, বড়দিন উপলক্ষ্যে আলুয়াচক গ্রামে পিকনিকের আসরে বাজছিল ডিজে। কয়েকজন গানের তালে হাতে মদের গ্লাস নিয়ে কোমর দোলাচ্ছিল। তাদের উল্লাস আর মাটি কাঁপানোর ডিজের শব্দে শয্যাশায়ী ক্যান্সার আক্রান্ত সুদর্শন মণ্ডল ছটফট করছিলেন। তাঁর ছেলে চন্দন পিকনিক পার্টির লোকজনকে বাবার কষ্টের কথা জানান। কিন্তু, তাঁর কথা কেউ কানে তোলেনি। উল্টে চন্দনবাবুদের শিক্ষা দিতে ডিজের আওয়াজ আরও বাড়িয়ে দেয়। তখন সুদর্শনবাবুর স্ত্রী অপর্ণাদেবী পিকনিকের আসরে গিয়ে স্বামীর অসহায় অবস্থার কথা জানিয়ে আস্তে ডিজে বাজানোর কথা বলেন। কিন্তু, তাঁর কথাকেও গুরুত্ব না দেওয়ায়  চন্দনের সঙ্গে পিকনিক পার্টির লোকজনের বচসা বেধে যায়। কথা কাটাকাটির মধ্যেই একজন মদের ভাঙা বোতল চন্দনের পিঠে ঢুকিয়ে দেয়। রক্তে ভিজে যায় সারা শরীর। এরপর অভিযুক্তরা বাড়িতে চড়াও হয়ে চালার বেশ কয়েকটি টালি ভেঙে দেয়। অপর্ণাদেবীকেও হেনস্তা করা হয়। মা ও ছেলেকে জানুবসান গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চন্দনবাবু পিঠ থেকে কাচের টুকরো বের করে সেলাই করা হয়। 
অপর্ণাদেবী এনিয়ে মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে তমলুক থানায় এফআইআর করেছেন। রূপানারায়ণ তীরবর্তী আলুয়াচক গ্রামে ওই ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিপাকে পড়েছে। তারা মিটমাটের জন্য অপর্ণাদেবী ও তাঁর স্বামীর হাতে পায়ে ধরছেন। শনিবার চন্দনবাবু বলেন, বাবা দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। ডিজের বিকট আওয়াজে বাবার প্রচণ্ড সমস্যা হচ্ছিল। তাই আমরা ডিজের আওয়াজ‌ কমানোর জন্য ওদের কাছে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু, তার ফল এমন ভয়ঙ্কর হবে কল্পনাও করিনি। ওবা মদের বোতল ভেঙে আমার পিঠে ঢুকিয়ে দেয়। ক্ষত স্থানে সেলাই পড়েছে। মাকেও শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে। বাড়ির টালির চালা ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমরা পাঁচজনের বিরুদ্ধে তমলুক থানায় এফআইআর করেছি। পিকনিক পার্টির সদস্য শঙ্কর দাস বলেন, একটা ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা সকলে একই গ্রামের বাসিন্দা। বাদীপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে একটা মিটমাট করার চেষ্টা চলছে। এধরনের ভুল আর ভবিষ্যতে আর হবে না। 

   
সম্পর্কিত সংবাদ