Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেদিনীপুর শহরের ছ’টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে পড়ার কারণ খুঁজতে বৈঠক তৃণমূলের

মেদিনীপুর শহরের ছ’টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে পড়ার কারণ খুঁজতে বৈঠক তৃণমূলের
  • ৩০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: উপনির্বাচন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু তৃণমূলের অন্দরে। ইতিমধ্যেই বুথ স্তরে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা নেতৃত্ব। কারণ উপনির্বাচনে বড় মার্জিনে জয় এলেও শহরের ৬টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে রয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, বুথ ধরে ভোটের ফলাফল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বুথ মিটিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ঘাটতি খুঁজে বের করার চেষ্টা হবে। আসলে আগামী বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে দলের অন্দরে ধীরে ধীরে প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে। 
Advertisement
এদিন মেদিনীপুর বিধানসভার নব নির্বাচিত বিধায়ক তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, বুথস্তরে একাধিক বৈঠক হবে। শহরে বেশকিছু ওয়ার্ডে পিছিয়ে রয়েছে দল। দলের অন্দরে তা নিয়ে আলোচনা হবে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বুথ স্তরে সংগঠন আরও শক্তিশালী করতে হবে। সকলকে একসঙ্গে চলার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। 
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, উপনির্বাচনে পুরসভার ৪, ৬, ৭, ৮, ২০ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। অর্থাৎ ২৫টির বেশি বুথে পিছিয়ে তৃণমূল। জানা গিয়েছে, পুর এলাকায় গত লোকসভা নির্বাচনে প্রচারে ঝড় তুলেছিল তৃণমূল। নেতাকর্মীরাও লিড নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনেও মেদিনীপুর শহরের ১৫টি ওয়ার্ডেই পিছিয়ে যায় তৃণমূল। ১, ২, ১১, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ২১, ২২ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বাদে বাকি ১৫টি ওয়ার্ডে এগিয়ে ছিল বিজেপি। প্রায় ৫ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়ে ঘাসফুল শিবির। যদিও এবারের উপনির্বাচনের ফলাফল অনুসারে ১২ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। একইসঙ্গে ৩ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জেতায় খুশি ঘাসফুল শিবির। কারণ এই দু›টি ওয়ার্ডে বিগত নির্বাচনগুলোতে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। তবে তৃণমূল নেতা কর্মীদের হিসেবে অনুসারে উপনির্বাচনে পুরসভা এলাকা থেকে ২০ হাজার ভোটে লিড নেওয়ার প্রত্যাশা ছিল। যা পূরণ হয়নি। 
এক তৃণমূল নেতার কথায়, বুথস্তরে গোষ্ঠী কোন্দল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহর এলাকার পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও গোষ্ঠী কোন্দল চরমে উঠেছে। এছাড়া বহু জনপ্রতিনিধির জনসংযোগ তলানিতে নেমে এসেছে। যা সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখেছে না। বুথস্তরে বৈঠক করে সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। 
এদিন জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, পুলিসের সাহায্যে ভোট করিয়েছে তৃণমূল। এই বাজারেও আমাদের প্রার্থী প্রায় ৮১ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। আগামী বিধানসভা ভোটে ফলাফল ভালো হবে। কারণ, সাধারণ মানুষ তৃণমূলের দুর্নীতি পছন্দ করছে না।
সম্পর্কিত সংবাদ