Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেদিনীপুর পুরসভায় ডেঙ্গুর দাপট, একটি ওয়ার্ডেই আক্রান্ত ৬

মেদিনীপুর পুরসভায় ডেঙ্গুর দাপট, একটি ওয়ার্ডেই আক্রান্ত ৬
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: উপনির্বাচন শেষ হতেই ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বিগ্ন মেদিনীপুর পুরসভা। কারণ পুরসভা এলাকার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছ’জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। একইসঙ্গে  ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা একশো পার করায় শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই ছুটির দিনেও পুরসভার আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা জোর কদমে কাজ শুরু করেছেন। বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি ব্লিচিং পাউডার, পতঙ্গবাহিত রোগ নির্মূল করার স্প্রে করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এছাড়াও পরিত্যক্ত একাধিক পুকুর পরিষ্কারের কাজও শুরু হয়েছে। 
Advertisement
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, উপনির্বাচনের সময় থেকেই ডেঙ্গুর বাড়াবাড়ি শুরু হয়। পুরসভার পাঁচটি ওয়ার্ডে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।  
মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় নানা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পরিত্যক্ত পুকুর পরিষ্কার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকেও আরও সচেতন হতে বলা হচ্ছে। কেউ আতঙ্কিত হবেন না। 
প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারের তরফে পতঙ্গবাহিত রোগ নির্মূল করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জেলায় জেলায় বিভিন্ন কর্মসূচিও শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পুরসভা, পঞ্চায়েত এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন। রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য পতঙ্গবাহিত রোগ নির্মূল করা। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে জেলায় ভেক্টর ডিজিজ কন্ট্রোল টিম কাজ করছে। এবছর আগে থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ায়  পুরসভা এলাকায় ছবিটা বদলেছে। তাই গত বছরের তুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কম।
পুরসভা সূত্রে সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর শহরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচশো ছড়িয়েছিল। এবছর পুরসভার ৫, ৭ , ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তবে নতুন করে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা একধাক্কায় বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুরসভার আধিকারিকদের ধারণা, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাগান পুকুর থেকেই পতঙ্গবাহিত রোগ ছড়িয়েছে। এছাড়াও ওই এলাকায় নর্দমা পরিষ্কারে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। 
প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বিভিন্ন এলাকায় জল জমে থাকলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে। কেউ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হলে সেই এলাকায় গিয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলায় নানা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। মেদিনীপুর পুরসভাও কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে। পুরসভার তরফেও মশারি দেওয়া হয়েছে। 
এদিন মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা সঞ্জয় দাস বলেন, আবর্জনা জমায় অনেক জায়গায় নর্দমার জল আটকিয়ে আছে। বিকেলের পর মশার জ্বালায় বাড়িতে টেকা দায় হয়ে উঠছে। পুরসভার উচিত আরও গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখা।
সম্পর্কিত সংবাদ