নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: গত দু’দিন ধরে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। আর সেই বৃষ্টি যেন আশীর্বাদ হয়ে নেমে এসেছে বোরো ধান চাষিদের কাছে। কিন্তু কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে আলু চাষিদের। কারণ, বৃষ্টির জেরে আলুর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। মেদিনীপুর মহকুমার বেশকিছু এলাকায় আলু চাষের ক্ষতি হয়েছে। চাষিদের কথায়, জমিতে অতিরিক্ত জল আলু চাষের ক্ষতি করে। বৃষ্টি হওয়ায় আতঙ্কিত রয়েছেন আলু চাষিরা। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মরশুমে জেলাজুড়ে প্রায় ২ লক্ষ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ শুরু হয়েছে। অপরদিকে ৭০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে হচ্ছে আলুর চাষ। বৃষ্টির জেরে আলুর চাষে যাতে ক্ষতি না হয় সেদিকে নজরদারি চালাচ্ছে কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা। তাঁরা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন। পাশাপাশি চাষিদের নানান পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক মিশন ডিরেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক (কৃষি) গোবিন্দ হালদার বলেন, অল্প বৃষ্টিতে খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। টানা মেঘলা আবহাওয়া থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়ত।
Advertisement
প্রসঙ্গত, কৃষি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি এই জেলাতেও বহু সংখ্যায় চাষি কৃষক বন্ধু, শস্যবিমার সুবিধা পেয়েছেন। এরফলে জেলার কৃষি ব্যবস্থার পরিকাঠামো আগের তুলনায় অনেকটাই উন্নত হয়েছে। একইসঙ্গে চাষের পরিমাণও বেড়েছে। জেলায় ইতিমধ্যেই বোরো ধানের চাষ শুরু হয়েছে। প্রায় দুই লক্ষ হেক্টরের বেশি জমিতে পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো ধান চাষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু বোরো ধানের চাষ সেচ নির্ভর। এরফলে বৃষ্টি হলে ফলন ভালো হয়। তাই বৃষ্টি হওয়ায় সুবিধা হয়েছে চাষিদের। এই জেলার ডেবরা, নারায়ণগড়, দাঁতন-১, সবং, পিংলা ব্লকে বোরো ধান চাষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রতি বিঘা জমি থেকে ১৫ থেকে ১৮ মন পর্যন্ত উৎপাদন হবে। অপরদিকে, জেলায় প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। পোখরাজ জাতের আলু প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে। প্রতি হেক্টর জমি থেকে পোখরাজ আলু ২০ থেকে ২২ টন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে জ্যোতি সহ অন্যান্য প্রজাতির আলু প্রতি হেক্টর জমিতে ২৫ থেকে ৩০ টন উৎপাদিত হবে। কিন্তু আচমকা বৃষ্টির জেরে সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা। কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ বাড়ত। রবিবার থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় উপকৃত হবেন চাষিরা। গড়বেতা এলাকার আলু চাষি সন্দীপ মণ্ডল বলেন, অনেক জমিতেই বৃষ্টির জল জমে থাকে। এরফলে আলুর ক্ষতি হবে। এছাড়া দু’দিনের মেঘলা আবহাওয়ায় ধসা জাতীয় রোগ দেখা দিতে পারে। ফলন কেমন হবে বুঝতে পারছি না।



