Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাদক কারবারিদের তালিকা থানায় জমা দিলেও গ্রেপ্তারি শূন্য, ক্ষোভ

মাদক কারবারিদের তালিকা থানায় জমা দিলেও গ্রেপ্তারি শূন্য, ক্ষোভ
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: নকশালবাড়িতে মাদক নিয়ে গণ অভিযোগের পরও অধরা মাদক কারবারিরা। তাই পুলিসের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। যদিও সপ্তাহ খানেক ধরে জেলা পুলিসের পদস্থ আধিকারিকরা তদন্তের স্বার্থে নকশালবাড়ি থানায় আসছেন। ইতিমধ্যে একাধিক পুলিস কর্মীকে এলাকার মাদক কারবার নিয়ে তলব করেছেন দার্জিলিং জেলা পুলিসের পদস্থ আধিকারিকরা। পুলিসের দাবি, অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামা হয়েছে। শীঘ্রই মাদক কারবারিরা ধরা পড়বে। পুলিস কাজ করছে না এমন ধারণা ঠিক নয়। 
Advertisement
প্রসঙ্গত, নকশালবাড়ির সংখ্যালঘু এলাকায় মাদক কারবারের দৌরাত্ম্য রুখতে গত ২৬ ডিসেম্বর গণ অভিযোগ নিয়ে থানায় হাজির হয়েছিলেন তোতারামজোত ও কালুয়াজোতের বাসিন্দারা। ওই অভিযোগপত্রে এলাকায় মাদক কারবার চালাচ্ছে এমন কয়েকজনের নাম লেখা হয়েছিল। যদিও পুলিসের দাবি, ওই তালিকায় যাদের নাম আছে তারা ইতিমধ্যেই গা ঢাকা দিয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। এলাকায় অভিযানে যাওয়া হচ্ছে। 
শিলিগুড়ি শহর সহ মহকুমার গ্রামীণ এলাকায় মাদক সংক্রান্ত অধিকাংশ মামলায় নকশালবাড়ির তোতারামজোতের বাসিন্দারা গ্রেপ্তার হয়। স্থানীয়দের দাবি, মাদক নিয়ে গত তিনমাস ধরে নকশালবাড়িতে পুলিসের কোনও অভিযান নেই। গত একমাসে মাদক সংক্রান্ত যে মামলা হয়েছে, তা এসএসবি’র অভিযানে ধড়া পড়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর নকশালবাড়ির রথখোলায় এসএসবি’র অভিযানে ১৮০ গ্রাম ব্রাউন সুগার সহ তোতারামজোতের এক যুবক গ্রেপ্তার হয়েছিল। তার তিনদিন পর একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসএসবি ২০৫ গ্রাম মরফিন সহ মালদহের এক যুবককে ধরেছিল। 
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মহম্মদ কালাম বলেন, লিখিত অভিযোগ জানানোর পরে পুলিসের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের হুঁশ ফিরেছে। গ্রামে মাদকের কারবার বন্ধ করতে আমরা পুলিসকে সবদিক থেকে সাহায্য করব। তবে পুলিসকেও এনিয়ে উদ্যোগী হতে হবে। 
প্রতিবাদে সরব স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ হানিফ বলেন, পুলিসকে মাদক কারবারিদের তালিকা দিতেই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অভিযুক্তরা। কার্শিয়াংয়ের অতিরিক্ত পুলিস সুপার অভিষেক রায় বলেন, অভিযোগকারীরা মাদক কারবারিদের নামের তালিকা পুলিসকে দিয়েছে। আর এটা জানতে পেরেই গা ঢাকা দিয়েছে কারবারিরা। আমরা ওই এলাকায় নিয়মিত অভিযানে যাচ্ছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তাদের হেফাজত থেকে মাদক পাওয়া গেলেই নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হবে। পুলিস নিজেদের মতো করে গোটা ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ