Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাদক কারবারি উদ্ধারে পুলিসের উপর হামলা 

মাদক কারবারি উদ্ধারে পুলিসের উপর হামলা 
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: পুলিসকে অস্ত্র দেখিয়ে ক্যাম্প থেকে মাদক কারবারিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল লালগোলায়। পুলিস ক্যাম্পে হাসুয়া ও লাঠি  নিয়ে হাজির হয়ে উর্দিধারীদের সঙ্গে রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধ শুরু করে দেয় কয়েকজন। এই ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে লালগোলা থানার পুলিস। ধৃতদের বুধবার লালবাগ আদালতে তোলা হলে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
Advertisement
জেলার পুলিস সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদব বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে ধরে আনা হয়েছিল। তারপর তাকে ছাড়ানোর জন্য বেশ কিছু লোক কর্তব্যরত অফিসারদের উপর হামলার চেষ্টা করে। তাই ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। 
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, মঙ্গলবার দুপুরে লালগোলা থানার পুলিস রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে অভিযান চালায়। সেখান থেকে সাবির আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে মাদক কারবার চালানোর অভিযোগে তুলে আনা হয়। তাকে স্থানীয় আয়ারমারি পুলিস ক্যাম্পে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিস। কিছুক্ষণের মধ্যে সাবিরকে ছাড়ানোর জন্য খলিফাবাদ থেকে কয়েকজন যুবক সেখানে এসে হাজির হয়। তাদের মধ্যে সোনারুল হক নামের এক যুবক মারমুখী হয়ে ওঠে। হাসুয়া ও লাঠি নিয়ে পুলিসের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। সেই সুযোগে ক্যাম্পের পুলিস হেফাজত থেকে সাবিরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ক্যাম্পে হামলার খবর শুনেই সেখানে পৌঁছয় লালগোলা থানার বিশাল পুলিসবাহিনী। হামলাকারীদের ঠেকাতে গেলে রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। এইসময়ে পুলিসকে দেখে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে আক্রমণকারীরা। রাধাকৃষ্ণপুরের সায়েমা খাতুনের নেতৃত্বে বেশ কিছু মহিলা সেখানে জড়ো হয়। তারাও পুলিসকে আক্রমণ করে। মহিলা পুলিস সহ আরও বাহিনী এসে তাদের পাকড়াও করে লালগোলা থানায় নিয়ে যায়। মোট এগারো জনের বিরুদ্ধে কর্তব্যরত অফিসারদের গায়ে হাত তোলা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। 
এক সময়ে লালগোলা ছিল হেরোইনের আঁতুড়ঘর। ভিন রাজ্য থেকে কাঁচামাল এনে দেদার হেরোইন তৈরি হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই পরিস্থিতির আমুল পরিবর্তন হয়েছে।  মাদক কারবারিরা অধিকাংশই জেলে। কেউ কেউ সাজা শেষ করে গ্রামে ফিরেছে। অনেকেই পুলিসের তাড়া খেয়ে অন্যত্র গা ঢাকা দিয়েছে। কিন্তু যারা মাদক সেবনে অভ্যস্ত, তারাই লালগোলায় এখনও কারবার জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছে। সূত্রের খবর, ভিন রাজ্য থেকে মাঝেমধ্যেই হেরোইনের কনসাইনমেন্ট সরাসরি ঢোকে লালগোলায়। অধিকাংশই কারবার হয় ট্রেন পথে। আর সেই মাদক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামগঞ্জের অলিগলিতে। এখনও লালগোলার বেশ কিছু যুবক মাদকের ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে। মাঝেমধ্যে পুলিস বমাল তাদের পাকড়াও করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এদিন এভাবে মাদক কারবারি সন্দেহে আটক যুবককে ছাড়াতে পুলিসের উপর হামলার ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। 
রাধাকৃষ্ণপুরের এক বাসিন্দা বলেন, আগে কখনও আমাদের গ্রামে এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি। অনেক যুবক লুকিয়ে নেশা করে ঠিকই। এতে তো গ্রামের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তবে মানুষজন এমন হিংস্র হয়ে উঠেছে তা ভাবতে পারছি না। পুলিসকে আক্রমণ করা ঠিক হয়নি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ