সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিগত কয়েক বছর ধরেই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ছিল নাবালক-নাবালিকা। ধীরে ধীরে সম্পর্ক আরও গাঢ় হতে থাকে। তারা স্বপ্ন দেখে নিজেদের ঘর বাঁধার। তবে, দু’জনেই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। তারা এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। বিয়ের বয়স না হওয়ায় সায় ছিল না দুই পরিবারের। তবে, ‘বর-বউ’ রাজি তো আটকাবে কে! শেষমেষ তারা সিদ্ধান্ত নেয়, মাধ্যমিক শেষ হতেই বিয়ে সেরে ফেলবে। সেই মতো উদ্যোগী হয়েছিল নাবালক-নাবালিকা। দুই পরিবার অবশ্য এই কাজে সায় দেয়নি। তাই এক আত্মীয়র বাড়িতেই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। মঙ্গলবার সেই খবর পেয়ে বিয়ে আটকাতে আসে পুলিস ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। তাঁদের দেখা মাত্রই দৌড় দেয় অপ্রাপ্ত বয়স্ক প্রেমিক যুগল। স্থানীয় পুকুরপাড়ের চারধারেই কয়েক পাক ঘোরে তারা। কিন্তু লাভ কিছুই হয়নি। স্থানীয়রা তাঁদেরকে ধরে পুলিসের হাতে তুলে দেন। মঙ্গলবার দুপুরে বিষ্ণুপুর শহরের কুলুপুকুর এলাকায় এমনই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এই এলাকায় কয়েকশো মানুষ জড়ো হন। পরে প্রশাসনের লোকজন তাদের থানায় নিয়ে যান। উভয়ের কাউন্সেলিং করে নিজের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুই পরিবারের লোকেদের কাছ থেকে ১৮ বছরের আগে বিয়ে না দেওয়ার ব্যাপারে মুচলেকা নেওয়া হয়।
Advertisement
এবিষয়ে বিষ্ণুপুর ব্লকের জয়েন্ট বিডিও সুপ্রকাশ মাইতি বলেন, নাবালিকার বিয়ের খবর পেয়ে এদিন শহরের কুলুপুকুর এলাকায় এসেছিলাম। নাবালিকা মেয়েটি বাড়ি থেকে পালিয়ে তার প্রেমিকের বাড়িতে চলে এসেছিল। ছেলে এবং মেয়ে দু’জনেই নাবালক। তাই তাদের বিয়েতে দুই পরিবারেরই আপত্তি ছিল। কিন্তু তারা পরিবারের লোকেদের কথা অগ্রাহ্য করে বিয়ে করতে চেয়েছিল। সেই খবর পেয়ে এসেছিলাম। তাদের বিয়ে রোখা সম্ভব হয়েছে।
বিষ্ণুপুর থানার আইসি অতনু সাঁতরা বলেন, দু’জনেরই বয়স ১৮ বছরের নীচে। তারা নিজেদের সিদ্ধান্তেই বিয়ে করতে চেয়েছিল। পরে তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়। এই বিষয়ে আইন সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করা হয়।
নাবালিকার বাবা বলেন, আমরা আইন জেনেই মেয়ের এখনই বিয়ে দিতে রাজি হইনি। কিন্তু সাবালিকা হলে তার পছন্দের পাত্রের সঙ্গেই বিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তা না শুনে সে নিজেই বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে। প্রশাসনের সাহায্যে বোঝানোর পর মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে।
নাবালকের মা বলেন, আমার ছেলের এখনও বিয়ের বয়স হয়নি। সে একটি নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে করতে চাইছে জেনে আমরা ওকে বাড়িতে থাকতে দিইনি। কিন্তু আমার শাশুড়ির পৃথক বাড়িতে সে আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানেই মেয়েটিকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিল।
বিষ্ণুপুর পুরসভার প্রাক্তন প্রশাসক দিব্যেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই খবর জানার পরেই পুলিসকে বিষয়টি জানানো হয়। প্রাপ্ত বয়সের আগে বিয়ে করা আইন বিরুদ্ধ। এবিষয়ে আরও সচেতন করা হবে।বিষ্ণুপুর থানার আইসি অতনু সাঁতরা বলেন, দু’জনেরই বয়স ১৮ বছরের নীচে। তারা নিজেদের সিদ্ধান্তেই বিয়ে করতে চেয়েছিল। পরে তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়। এই বিষয়ে আইন সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করা হয়।
নাবালিকার বাবা বলেন, আমরা আইন জেনেই মেয়ের এখনই বিয়ে দিতে রাজি হইনি। কিন্তু সাবালিকা হলে তার পছন্দের পাত্রের সঙ্গেই বিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তা না শুনে সে নিজেই বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে। প্রশাসনের সাহায্যে বোঝানোর পর মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে।
নাবালকের মা বলেন, আমার ছেলের এখনও বিয়ের বয়স হয়নি। সে একটি নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে করতে চাইছে জেনে আমরা ওকে বাড়িতে থাকতে দিইনি। কিন্তু আমার শাশুড়ির পৃথক বাড়িতে সে আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানেই মেয়েটিকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিল।



