নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: আচমকাই বাইকের সামনে চলে এল কুকুর। কুকুরটিকে বাঁচাতে গিয়েই দুই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পড়ল দুর্ঘটনার কবলে। ঘটনায় দু’জনেই গুরুতর জখম হয়। মঙ্গলবার সকালে গোয়ালার মোড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাধ্যমিক দুই পরীক্ষার্থীর নাম নবিউল আনসারি ও এহসান আনসারি। তাদের মাথা, হাত-পা ও কপালে চোট লাগে। তড়িঘড়ি তাদের উদ্ধার করে ময়ূরেশ্বর-১ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিত্সা শেষে এদিন সন্ধ্যায় দু’জনেই বাড়ি ফেরে। ফলত মঙ্গলবার ওই দুই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়া হল না। জেলার মাধ্যমিক পরীক্ষার আহ্বায়ক চন্দন ঘোষ বলেন, আমরা চেষ্টা করেছিলাম যাতে ওই দুই পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারে। হাসপাতালেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করার কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু চোটের জন্য তারা পরীক্ষা দিতে পারেনি। আগামী বছর নতুন করে তাদের পরীক্ষা দিতে হবে।
Advertisement
রামপুরহাটের শালবাদরা হাটতলার বাসিন্দা ওই দুই পরীক্ষার্থী শালবাদরা হাইস্কুলের ছাত্র। তাদের পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল মল্লারপুর গার্লস হাইস্কুল। মাধ্যমিকের শুরু থেকেই তারা টোটোয় চেপে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়া আসা করত। তবে ভূগোল পরীক্ষার সকালে তারা বাইকে চেপে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মোতাবেক এহসান আনসারি তার বাবার বাইক নিয়ে রওনা হয়। এহসানের পিছনে বসেছিল নাবিউল আনসারি। অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে তারা একজোটে রওনা হয়েছিল। গোয়ালার মোড় এলাকায় পৌঁছতেই বিপত্তি ঘটে। আচমকাই রাস্তার ওপর কুকুর চলে আসে। ইমার্জেন্সি ব্রেক কষতেই বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দু’জনে রাস্তার উপর পড়ে যায়। ঘটনার খবর পেতেই জেলার মাধ্যমিক পরীক্ষার আহ্বায়ক ওই দুই পরীক্ষার্থীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন। তাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে হাসপাতাল থেকেই পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা ভাবনা শুরু হয়। যদিও তারা পরীক্ষা দেওয়ার অবস্থায় ছিল না। সেইসঙ্গে চিকিৎসকের তরফেও অনুমতি ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই ওই দুই পরীক্ষার্থীকে আগামী বছর ফের মাধ্যমিক দিতে হবে। দুর্ঘটনায় জখম এহসান আনসারি বলে, আচমকাই কুকুর চলে আসায় দুর্ঘটনা ঘটে। কপালে চারটে সেলাই পড়েছে। এদিন ভূগোল পরীক্ষা দিতে পারলাম না। বাকি পরীক্ষাগুলিও দেওয়া হবে না। খুবই খারাপ লাগছে। অন্যদিকে নাবিউলের বাবা নাসিরুদ্দিন মিয়া বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে ছেলে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এদিন পরীক্ষা দিতে পারেনি। বাকি পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা বলা মুশকিল।



