Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাধ্যম ক্যুরিয়ার, যোগীরাজ্য থেকে নিষিদ্ধ সিরাপ জেলায়

মাধ্যম ক্যুরিয়ার, যোগীরাজ্য থেকে নিষিদ্ধ সিরাপ জেলায়
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: যোগী রাজ্য থেকে বাংলায় আসছে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। চোরাকারবারিরা ক্যুরিয়ারের মাধ্যমে তা পাঠাতে শুরু করেছে। এতদিন সিরাপের শিশি গাড়িতে করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হতো। এখন আসছে ক্যুরিয়ারে। সেগুলি সীমান্তে নিয়ে এসে বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে। আবার চাহিদা মতো ভারতের খোলা বাজারেও বিক্রি করে মুনাফা লুটছে কারবারিরা। সম্প্রতি নদীয়া সীমান্তের একাধিক পাচারকারী গ্রেপ্তার হয়েছে।‌ প্রতিটি ঘটনার তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। ক্যুরিয়ারের মাধ্যমে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপের আমদানি ও পাচারের প্রবণতা উদ্বেগ বাড়িয়েছে পুলিস প্রশাসনের। অবৈধ সামগ্রী এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে এই পদ্ধতিতে হাতবদল হলে পুলিসের পক্ষে তা ট্রেস করা মুশকিল হয়ে পড়ছে। কারণ প্যাকিং অবস্থায় আসা কোনও বাক্সের চেকিং হয় ক্যুরিয়ারের অফিসগুলিতে। সেক্ষেত্রে পুলিসের কোনও ভূমিকা থাকে না। স্বভাবতই পুলিসের নজর এড়িয়ে অনায়াসেই অবৈধ সামগ্রী নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাচ্ছে। ধুরন্ধর কারবারিরা ক্যুরিয়ারে কোনও ব্যক্তির নাম লিখছে না। পরিবর্তে এন্টারপ্রাইজ বা  কোম্পানির নাম ব্যবহার করছে তারা। 
Advertisement
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, ভিন রাজ্য থেকে ফেনসিডিল আনা হচ্ছে।‌ তারপর তা নদীয়া সীমান্ত দিয়ে অন্যত্র পাচার করা হচ্ছে। আমরা বেশ কয়েকটি ঘটনার তদন্তে নেমে এমন তথ্য হাতে পেয়েছি। পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে, চোরাকারবারিরা অভিনব পদ্ধতিতে অবৈধ সামগ্রী নিয়ে আসছে। যেটা বেশ উদ্বেগের। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে ভীমপুর থানার পুলিস ২০ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করে। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, সেই সিরাপ বেনারস থেকে আনা হয়েছিল। তারপর দিন দুয়েক আগে কৃষ্ণগঞ্জ থেকে তিনজন পাচারকারী সহ বাজেয়াপ্ত হয় এক হাজার বোতল ফেনসিডিল। উত্তরপ্রদেশের আগ্রা থেকে সেই সামগ্রী আনা হয়েছিল বলে পুলিস জানতে পেরেছে। সেখান থেকে প্যাকিং করে ক্যুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে জেলার কৃষ্ণগঞ্জের মাজদিয়ার ক্যুরিয়ার অফিসে আসে। তারপর অফিসে এসে সেগুলি দু’জন যুবক নিয়ে যায়। পুলিস ধাওয়া করে তাদের ধরে ফেলে। 
ক্যুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করার জন্য ভুয়ো নাম ও পরিচয় ব্যবহার করেছে চোরাকারবারিরা। দেওয়া হচ্ছে ফেক ফোন নম্বরও। যেখানে সামগ্রী পাচার করা হবে, সেই ঠিকানায় যথাসময়ে তা পৌঁছেও যাচ্ছে। কিন্তু সেখানে রিসিভারের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে না। সেই জায়গায় থাকছে কোনও এন্টারপ্রাইজ কিংবা কোনও কোম্পানির নাম। যেমন কৃষ্ণগঞ্জের ঘটনায় ‘মা তারা এন্টারপ্রাইজে’র নামে কাশির সিরাপ এসেছিল। একটি বাক্সের মধ্যে দুটি কলম ছিল। প্রতিটি কলমে ধাপে ধাপে ডিমের ট্রে’র আকৃতির থাকে কাশির সিরাপের বোতল রাখা ছিল। পুলিসের অনুমান, ভিন রাজ্য থেকে আসা এই অবৈধ নেশার সামগ্রীর ডেসপ্যাচ পয়েন্ট বানানো হয়েছে নদীয়া জেলাকে। পুলিসের এক আধিকারিকের কথায়, বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিং বাড়ানো হয়েছে। তাই বেশি পরিমাণে কাশির সিরাপ আনলে ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই অল্প অল্প পরিমাণে এই অবৈধ সামগ্রী পাচার করা হচ্ছে। এর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ক্যুরিয়ার সার্ভিসকে। 
সম্পর্কিত সংবাদ