Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মিড ডে মিলের খিচুড়িতে টিকটিকি সমস্ত রান্নাঘর পরিদর্শনের নির্দেশ

মিড ডে মিলের খিচুড়িতে টিকটিকি সমস্ত রান্নাঘর পরিদর্শনের নির্দেশ
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মিড ডে মিলের খিচুড়িতে টিকটিকি পড়ে যাওয়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসল খাতড়া মহকুমা প্রশাসন। ঝুলকালিতে ভরা রান্নাঘরের ছাউনি থেকে কোনওভাবে টিকিটিকি ফুটন্ত খিচুড়ির হাঁড়িতে পড়ে গিয়ে থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের কর্মী-সহায়িকারা অনুমান করেন। ওই ঘটনার পর মহকুমার সমস্ত স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রান্নাঘরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন খাতড়ার এসডিও শুভম মৌর্য। অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ও সিডিপিও-দের ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে মহকুমা শাসক জানিয়েছেন। এব্যাপারে প্রশাসনের কাছে ব্লকস্তরের ওইসব আধিকারিকদের রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
Advertisement
মহকুমা শাসক বলেন, স্কুলের পড়ুয়া ও অঙ্গনওয়াড়ির কচিকাঁচারা মিড ডে মিল খেয়ে থাকে। ফলে তা তৈরির সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। রান্নাঘরের ছাউনি বা দেওয়াল পরিষ্কার থাকা জরুরি। মিড ডে মিলের রান্নাঘরগুলি বর্তমানে কী অবস্থায় রয়েছে, তা যাচাই করতে আমরা উদ্যোগী হয়েছি। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের এসআই ও আইসিডিএসের সিডিপিও-দের তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রান্না করার উপযুক্ত নয়, এমন জায়গায় মিড ডে মিলের হাঁড়ি চাপলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শাতে বলা হবে। 
বাঁকুড়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক পীযূষকান্তি বেরা বলেন, মিড ডে মিলের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর দেখে। তবে ছাত্রছাত্রীদের খাবারের মানের দিকে নজর দেওয়ার জন্য আমরাও প্রধান শিক্ষকদের বলে থাকি। 
প্রশাসন ও স্কুল শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, খাতড়া মহকুমা এলাকায় ২৫৫টি উচ্চ বিদ্যালয় ও পাঁচ শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজারখানেক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। ফলে সবমিলিয়ে দু’হাজারেরও বেশি জায়গায় মিড ডে মিল রান্না হয়। প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়গুলিতে মিড ডে মিল রান্নার জন্য শেড অথবা ঘর রয়েছে। কিন্তু, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির ক্ষেত্রে সর্বত্র তার ব্যবস্থা হয়নি। ফলে কোথাও খোলা আকাশের নীচে, কোথাও আবার গাছের তলায় মিড ডে মিলের খিচুড়ি রান্না হয়। এমনকী বাজার, মন্দিরের আটচালা বা স্থানীয় বাসিন্দাদের চালাঘরেও তা অনেক সময় রান্না হয়। ফলে সবসময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব হয় না। বাঁকুড়া সদর বা বিষ্ণুপুর মহকুমা এলাকায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির জন্য পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু, জঙ্গলমহলের ব্লকগুলির বহু জায়গায় তা এখনও তৈরি করা হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ফলে ওইসব আইসিডিএসের অবস্থা আরও করুণ। সেখানে আটচালার মধ্যে শিশুদের অক্ষর জ্ঞান শেখানো, অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি মায়েদের সচেনতনতার পাঠ দেওয়া, মিড ডে মিল রান্না সব পাশাপাশি সকাল থেকে শুরু হয়। শেষে মা ও শিশুরা মিড ডে মিলের খিচুড়ি নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেয়। কেউ আবার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রেই তা খেয়ে নেয়। তা খেতে গিয়েই উপভোক্তারা খাতড়ার চকবাজারের ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মিড ডে মিলের মধ্যে একটি টিকটিকি দেখতে পান। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, পুলিসি হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের পরিদর্শন সবই হয়। তারপর মহকুমা প্রশাসন এব্যাপারে সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করল।         
সম্পর্কিত সংবাদ