Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুচিপাড়া যেন দুর্ভেদ্য দুর্গ, বিশাল বাহিনী নিয়ে অভিযানে পুলিসের জালে মোটে এক

মুচিপাড়া যেন দুর্ভেদ্য দুর্গ, বিশাল বাহিনী নিয়ে অভিযানে পুলিসের জালে মোটে এক
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নিয়ামতপুর (কুলটি): মুচিপাড়ার ভোলবদল। জুতো সেলাইয়ের পাট তুলে ছেলেদের হাতে হাতে মোবাইল, ল্যাপটপ। জিটি রোডের উপর সংকীর্ণ গলিপথ দিয়ে প্রবেশ করলেই যেন আলাদা দুনিয়া। সারি দিয়ে গজিয়ে উঠছে বিলাসবহুল অট্টালিকা। ঝুপড়ি বাড়ি ভেঙে গড়ে উঠছে দোতলা, তিনতলা স্থায়ী নির্মাণ। এসবই নাকি সাইবার অপরাধের জাদুকাটির ছোঁয়ায়। প্রথমে মিনি জামতাড়া নামে কুখ্যাতি ছড়ালেও সাইবার অপরাধের জগতে এখন পরিচিত নাম নিয়ামতপুর মুচিপাড়া ওরফে দাস পাড়া ওরফে হরিজন পাড়া। শুক্রবার এই এলাকায় অভিযান চালিয়েছিল বিশাল পুলিস বাহিনী। কিন্তু বিভিন্ন থানার পুলিস জড়ো করে এনেও লাভ হয়নি পুলিসের। যে বিশাল জালিয়াত বাহিনী ধরার উদ্দেশ্য ছিল, তা সফল হয়নি। একজনকে গ্রেপ্তার করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। দুঁদে পুলিস অফিসারদের কথায়, পুরো এলাকা যেন সংকীর্ণ মুখ বোতলের মতো। পুলিস অভিযানে গেলে গলিমুখ আটকে দাঁড়িয়ে পড়ে মহিলারা। তাঁদের সঙ্গে বচসা, ধস্তাধস্তি পর্ব শেষে পুলিস যখন এলাকায় ঢোকে তখন সাইবার চাঁইরা ঩ভোকাট্টা। শুক্রবারের অভিযান ব্যাখা করতে গিয়ে এক উচ্চপদস্থ পুলিস আধিকারিক বলেন, জামতাড়াকেও ছাপিয়ে যাবে নিয়ামতপুরের মুচিপাড়া। এলাকাবাসী যেন সোনার খনি পেয়েছে। রাতারাতি গ‌঩জিয়ে উঠছে সব বহুতল। বাড়ির দরজাগুলি ভারি লোহার পাত দিয়ে তৈরি। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর আগে মহিলাদের বাধা টপকাতে হবে। তারপরেও বাড়ির মজবুত দরজা ভেঙে ঢোকার উপায় নেই। আমরা প্রাচীর টপকে এক বাড়িতে ঢুকতেই একটি রুমে ঢুকে গিয়ে ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন গৃহবধূ। পুলিস দরজা ধাক্কা দিলেও দরজা নড়ানো যায়নি। পরে পুলিসি হুমকিতে দরজা খুললেও গৃহবধূ খাট থেকে নামতে চায়নি। কোনও রকমে মহিলা অফিসাররা তাঁকে টেনে নামাতেই দেখা যায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা। সঙ্গে ১১ লক্ষ টাকার কিষান বিকাশ পত্র। কখনও নিজেদের দিনমজুর পরিচয় দিয়ে কখন নিজেকে জমি কারবারি বলতে থাকেন বাড়ির মালিক। অবশেষে পুলিস রাজু রুইদাসকে গ্রেপ্তার করে। এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজু চুনোপুটি, রাঘব বোয়ালরা থেকে গেল পর্দার আড়ালেই। এই চোরপুলিস খেলায় অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে মুচিপাড়া। জামতাড়ার মতো কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়িতেও নিয়ম করে আসে ভিন রাজ্যের পুলিস। মুচিপাড়ার পান্ডাদের ধরার উদ্দেশে তাঁরা এলেও আগেই অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। তাদের নেটওয়ার্ক এতটাই শক্তিশালী যে, পুলিসের আসার খবর আগেভাগেই তাদের কাছে পৌঁছে যায়। শুক্রবারের অভিযান ছিল অত্যন্ত গোপনীয়।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ