Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মোবাইলে গেম খেলে মানসিক অসুস্থতা কাটোয়ার কিশোরের, ভর্তি হাসপাতালে

মোবাইলে গেম খেলে মানসিক অসুস্থতা কাটোয়ার কিশোরের, ভর্তি হাসপাতালে
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাটোয়া: ফ্রি ফায়ারের মতো মোবাইল গেম খেলে গুরুতর অসুস্থ কাটোয়া শহরের এক কিশোর। বুধবার রাতেই তাকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অস্বাভাবিক আচরণ করছিল ওই কিশোর। বার বার সংজ্ঞা হারাচ্ছিল। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুধু একটা কথাই বলছে, ‘আমাকে মেরে দেবে, আমাকে ওরা বাঁচতে দেবে না।’ এমন ঘটনায় হতবাক চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা। 
Advertisement
কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল বলেন, ওই কিশোর অস্বাভাবিক আচরণ করছে। তাকে সাইকিয়াট্রিক বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এধরনের গেম খেললে মস্তিস্ক বিকৃতি ঘটবে। চোখ, কানের সমস্যা দেখা দেবে। বর্তমানে স্কুল পড়ুয়া থেকে যুব সমাজ মোবাইলে আসক্ত। কেউ রিলস করতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। আবার কেউ টাকা দিয়ে গেম খেলে নিঃস্ব হয়ে আত্মঘাতী হচ্ছে। তবুও মোবাইলে আসক্তি কমছে না। পড়াশুনার মান কমছে গেমের নেশায়। স্কুলে গিয়েও অনেকে অস্বাভাবিক আচরণ করছে। আগে নীল তিমি নামে একধরনের মারণ গেমের নেশায় বহু যুবক, কিশোর প্রাণ হারিয়েছে। সময় বদলানোর পাশাপাশি মোবাইলে গেমের ধরনও বদলেছে। এখন ফ্রি ফায়ার নামক এক গেমে বুঁদ সবাই। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া শহরের এক কিশোর সপ্তম শ্রেণির পর গেমের নেশার পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। গেমের আসক্তি থেকে সে রিকশ চালক বাবাকে দামি মোবাইল কিনে দেওয়ার জন্য চাপ দিত। বাবা মোবাইল কিনে দিতে না পারায় ওই কিশোর ফলের দোকানে কাজ করে মোবাইল কিনেছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুধু ফ্রি ফায়ার গেম খেলত সে। রাত জেগে খেলতে গিয়ে বেশ কয়েক বার অসুস্থও হয়ে পড়েছিল। তবুও গেমের আসক্তি যায়নি। শেষে এদিন রাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলায় তড়িঘড়ি তার বাবা ও মা কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিশোরের বাবা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ছেলেটা আমার গেমের নেশায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। 
উল্লেখ্য, ফ্রি ফায়ার হচ্ছে এক ধরনের শ্যুটার গেম। এধরনের গেমে প্রচুর মারামারি, খুন, রক্তারক্তির বিষয় রয়েছে। অনেকে মিলে এই খেলায় অংশ নেয়। অন্যকে ঘায়েল করে টিকে থাকতে হয়। এসব কিশোরদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন। তারা হিংস্র হয়ে ওঠে। যে সংস্থা এধরনের গেম তৈরি করছে, তারা চাইছে গেমে সবাই অংশ নিক। খেলতে খেলতে গেমটি ক্রমশ কঠিন আর চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। সবাই তখন চেষ্টা করতে থাকে চ্যালেঞ্জগুলো পূরণের জন্য। কাটোয়া মহকুমাজুড়ে এধরনের গেম টাকার বিনিময়েও খেলা হয়। অনেকেই এই গেম খেলে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। অসুস্থ কিশোর বলে, আমার কানে শুধু বাজছে ওই কথাগুলো— মার মার! শ্যুট কর।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ