সংবাদদাতা, ডোমকল: প্রযুক্তির দৌলতে বিপ্লব এসেছে টুকলিতেও। হাতে লেখা চিরকুট কিংবা মিনি জেরক্স এখন অতীত। বদলে পরীক্ষায় নকল করতে মোবাইল ফোনকে হাতিয়ার করছে পরীক্ষার্থীরা। শরীরের বিভিন্ন অংশে মোবাইল লুকিয়ে পরীক্ষা হলে ঢুকলেও, তাঁদের তল্লাশি চালাতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই বিব্রত হতে হয় পরীক্ষকদের। তাই এবারে ঝোপ বুঝে কোপ মারল স্কুল কর্তৃপক্ষও। পরীক্ষার হলে ডিজিটাল নকল আটকাতে এবারে ডিজিটাল পথ অবলম্বন করল স্কুল কর্তৃপক্ষও। তাও আবার বড় মানের কোনও কম্পিটিটিভ পরীক্ষায় নয়, জলঙ্গির অজ গাঁয়ের স্কুলে টেস্ট পরীক্ষায় ‘হাইটেক’ এই নকল আটকাতে এবার কাজে লাগানো হল মেটাল ডিটেক্টর। আর তাতে সাফল্যও মিলল। দু’ দিনের পরীক্ষাতেই মেটাল ডিটেক্টরের সৌজন্যে পরীক্ষা হলে ঢোকার সময় ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে উদ্ধার হল একাধিক মোবাইল ফোন। জলঙ্গির চোয়াপাড়া দুর্লভের পাড়া বিদ্যানিকেতনের দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষায় নকল আটকাতে ওই পদ্ধতি কাজে লাগানো হয়েছে। আর তাতে সাফল্যও মিলেছে। পোশাকের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষা হলে ঢোকার চেষ্টা করেছিল বেশ ক’জন পরীক্ষার্থী। ছক ছিল পরীক্ষকের নজর এড়িয়ে পরীক্ষায় নকল করার। কিন্তু হলে ঢোকার মুখেই মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশিতে ভেস্তে যায় সেই পরিকল্পনা। চোয়াপাড়া দুর্লভের পাড়া বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক গোলাম রহমান বলেন, কয়েকজনের কাছে মোবাইল পাওয়া গিয়েছে। এখন আর ছেলেদের পড়ার অভ্যেস নেই বললেই চলে। একটা ক্লাসে তিন-চারজন ছাড়া বাকি প্রায় সবাই পরীক্ষায় পাশ করতে অন্যায্য পথ অবলম্বন করছে। অনেকেই ক্লাস থেকে শুরু করে পরীক্ষা হলেও পোশাকের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে মোবাইল নিয়ে যাচ্ছে। মোবাইল খুঁজতে অনেকসময় তাদের তল্লাশি করাটাও লজ্জার বিষয় হয়ে ওঠে। মেয়েদের বেলায় তো সেটাও করা যায় না। তাই ওদের এই ডিজিটাল চুরির প্রবণতা আটকাতে আমরাও মেটাল ডিটেক্টরের মত ডিজিটাল পন্থা অবলম্বন করেছি। তাতে সাফল্য আসছে। ইতিমধ্যেই হলে ঢোকার সময় আমরা বেশ কয়েকটি মোবাইল উদ্ধার করেছি।



