পিনাকী ধোলে, পুরুলিয়া: মাস খানেক আগে পুরুলিয়ার বরাবাজারের সব্জি বাজারে কেনাকাটা করছিলেন এক প্রৌঢ়। সেই সময় তাঁর ফোনটি চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে এক কিশোর। খবর যায় পুলিসে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিস ওই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই এক অফিসারের ফোনে কল আসে এক উকিলের। তারপর শুরু হল সেই উকিলের হুমকি-‘আপনারা শিশুর উপর নির্যাতন করছেন। আপনাদের নামে শিশু সুরক্ষা কমিশনে মামলা করব’। ঘটনার অকস্মিকতায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাওয়ার জোগাড় হয় ওই দুঁদে পুলিস অফিসারের।
Advertisement
পুলিস সূত্রের খবর, এই সবই সাইবার প্রতারকদের কারসাজি। প্রতারণার এই ‘স্টাইল’ বর্তমানে ট্রেন্ডিং। প্রথমে চুরি যাচ্ছে মোবাইল ফোন। তারপর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এনিয়ে কার্যত অভিযোগের পাহাড় জমছে স্থানীয় থানাগুলিতে। তবে পুলিসের কাছে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়টি হল, প্রতারকরা এই কাজে ব্যবহার করছে শিশু, কিশোরদের। টাকার লোভ দেখিয়ে তাদের দিয়েই করানো হচ্ছে মোবাইল চুরি। জেলার পুলিস সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জেলায় এধরনের ঘটনা ঘটছে। মোবাইল চুরির কাজে খুব ছোট ছোট বাচ্চাদের ব্যবহার করছে প্রতারকরা। আমরা এই চক্রের মাথাদের ধরার চেষ্টা করছি।
কেন ছোট ছোট বাচ্চাদের ব্যবহার করা হচ্ছে? এক আধিকারিক বলেন, বাচ্চারা ধরা পড়লেও চট করে তাদের গায়ে কেউ হাত দেবে না। তাদের দেখলে চোর ভাবা তো দূর, বরং করুণা হতে বাধ্য। সেই আবেগকেই কাজে লাগাচ্ছে প্রতারকরা।
শুধু তাই নয়, কোনও শিশু যদি মোবাইল চুরি করতে গিয়ে ‘বাইচান্স’ ধরাও পড়ে তাদের আইনি সাহায্য দেওয়ার জন্য আগে থাকতেই প্রস্তুত রাখা হচ্ছে আইনজীবীদের। ফলে পুলিসও আর ‘সামান্য’ একটা মোবাইল ফোনের জন্য ঝঞ্ঝাটে যেতে চাইছে না। সহজেই পুলিসের হাত থেকে তারা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। পুলিস সূত্রের খবর, প্রতারকরা এই বাচ্চাদের ছেড়ে রাখছে বিভিন্ন বাজারে। বাজার থেকে মোবাইল ফোন চুরির পরেই তা তারা পৌঁছে দিচ্ছে ‘ওস্তাদের’ কাছে। প্রতারকরা ওই ফোন হাতে পেয়েই তার সিমকার্ড বের করে অন্য ফোনে লাগাচ্ছে। ব্যাঙ্ক থেকে টাকা হাতাতে এখন মূলত প্রয়োজন হয় ওটিপির। সিমকার্ড তো প্রতারকদের কাছেই রয়েছে। ফলে একটি ফোন চুরি করতে পারলেই লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা এখন ‘নস্যি’ প্রতারকদের কাছে।
পুলিস সূত্রের দাবি, পুরুলিয়া জেলায় যে সমস্ত ফোন চুরির ঘটনা ঘটছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই সব ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন পাওয়া গিয়েছে আসানসোলে। পুলিসের দাবি, সেখান থেকেই কাজ করছে এই চক্র। তবে, এব্যাপারে সচেতনও করছে পুলিস। সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, ফোন চুরি যাওয়া মাত্রই সিমকার্ডটি আগে ব্লক করতে হবে। তারপর যোগাযোগ করতে হবে ব্যাঙ্কের সঙ্গে। ওই ফোন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাতে কেউ টাকা না তুলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। একবার টাকা ব্যাঙ্ক থেকে গায়েব হয়ে গেলে তখন পুলিসে অভিযোগ করেও আর কিছু করা যাবে না!
কেন ছোট ছোট বাচ্চাদের ব্যবহার করা হচ্ছে? এক আধিকারিক বলেন, বাচ্চারা ধরা পড়লেও চট করে তাদের গায়ে কেউ হাত দেবে না। তাদের দেখলে চোর ভাবা তো দূর, বরং করুণা হতে বাধ্য। সেই আবেগকেই কাজে লাগাচ্ছে প্রতারকরা।
শুধু তাই নয়, কোনও শিশু যদি মোবাইল চুরি করতে গিয়ে ‘বাইচান্স’ ধরাও পড়ে তাদের আইনি সাহায্য দেওয়ার জন্য আগে থাকতেই প্রস্তুত রাখা হচ্ছে আইনজীবীদের। ফলে পুলিসও আর ‘সামান্য’ একটা মোবাইল ফোনের জন্য ঝঞ্ঝাটে যেতে চাইছে না। সহজেই পুলিসের হাত থেকে তারা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। পুলিস সূত্রের খবর, প্রতারকরা এই বাচ্চাদের ছেড়ে রাখছে বিভিন্ন বাজারে। বাজার থেকে মোবাইল ফোন চুরির পরেই তা তারা পৌঁছে দিচ্ছে ‘ওস্তাদের’ কাছে। প্রতারকরা ওই ফোন হাতে পেয়েই তার সিমকার্ড বের করে অন্য ফোনে লাগাচ্ছে। ব্যাঙ্ক থেকে টাকা হাতাতে এখন মূলত প্রয়োজন হয় ওটিপির। সিমকার্ড তো প্রতারকদের কাছেই রয়েছে। ফলে একটি ফোন চুরি করতে পারলেই লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা এখন ‘নস্যি’ প্রতারকদের কাছে।
পুলিস সূত্রের দাবি, পুরুলিয়া জেলায় যে সমস্ত ফোন চুরির ঘটনা ঘটছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই সব ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন পাওয়া গিয়েছে আসানসোলে। পুলিসের দাবি, সেখান থেকেই কাজ করছে এই চক্র। তবে, এব্যাপারে সচেতনও করছে পুলিস। সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, ফোন চুরি যাওয়া মাত্রই সিমকার্ডটি আগে ব্লক করতে হবে। তারপর যোগাযোগ করতে হবে ব্যাঙ্কের সঙ্গে। ওই ফোন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাতে কেউ টাকা না তুলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। একবার টাকা ব্যাঙ্ক থেকে গায়েব হয়ে গেলে তখন পুলিসে অভিযোগ করেও আর কিছু করা যাবে না!



