সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: পসার জমাতে এমবিবিএস পাশ করা চিকিৎসকরাও নামের পাশে বড় বড় করে এমডি ডিগ্রি লিখছেন। উদ্দেশ্য রোগী টানা। তাই সাইবোর্ড দেখে কে আসল, কে নকল তা বাছতে রোগীরা ধন্দে পড়ে যাচ্ছেন। অনেকে নন ক্লিনিক্যাল বিষয়ে এমডি করে চুটিয়ে রোগী দেখছেন। রাশিয়া থেকে পাশ করে আসা এক চিকিৎসকের এমডি ডিগ্রি নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। ওই চিকিৎসক অবশ্য এর আগেও বিতর্কে জড়িয়েছেন। তৃণমূল শিবিরের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় সেই সময় কোনো কিছুরই তিনি তোয়াক্কা করেননি। তাঁর অধীনে ভর্তি থাকা এক রোগীর মৃত্যুর পর পরিবারের লোকজন স্বাস্থ্যদপ্তরে অভিযোগ করেন। কিছুদিন তাঁর রেজিস্ট্রেশন সাসপেন্ডও করা হয়। তাপর আবার তিনি চুটিয়ে প্র্যাকটিস শুরু করেন।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্যাথলজি, ফিজিওলজি, ফার্মাকলোজি, বায়োকেমেস্ট্রি, অ্যানাটমি ‘নন ক্লিনিক্যাল’ বিষয়। এই বিষয়ে অনেকেই এমডি করেছেন। কিন্তু রোগী দেখছেন এমডি মেডিসিন হিসাবে। বর্ধমানের বাসিন্দা মণি চৌধুরী বলেন, খোসবাগান আমাদের ভরসার জায়গা। বাইরের রোগীও এখানে ভাল চিকিৎসার জন্য আসেন। সেখানেও এই অবস্থা হলে মানুষ যাবে কোথায়? ডাক্তারদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখে চিকিৎসা করানো রোগীদের পক্ষে সম্ভব নয়। আর এক বাসিন্দা বিশু দে বলেন, এখন কোনো চিকিৎসকের ফিজ ৫০০টাকার নীচে নেই। তারপর আবার চিকিৎসকরা নিজেদের ইচ্ছামতো ওষুধ ও টেস্ট লেখেন। বর্ধমানের এক এমডি পাশ চিকিৎসকের কাছে রোগী দেখাতে গেলে তাঁর ঠিক করে দেওয়া ক্লিনিকেই পরীক্ষা করতে হবে। আবার ওষুধও কিনতে হবে তাঁর নির্দিষ্ট করে দেওয়া দোকান থেকে। কয়েক দিন আগে পক্স হওয়া এক রোগী তাঁর কাছে যান। তিনি ১৭রকমের ওষুধ লেখেন। ওষুধের তালিকা দেখে দোকানদারও অবাক হয়ে যান। সত্যিকারের এমডি করা চিকিৎসকরা এমনটা করলে মানুষ যাবে কোথায়?
স্থানীয়রা বলেন, এখন নবাবহাট চত্বরেও চিকিৎসকের ছড়াছড়ি। সেখানেও একই অবস্থা। নবাবহাটেরই নার্সিংহোমে অপারেশন করত ভুয়ো চিকিৎসক সাইদুল হক। শিশুমৃত্যুর পর তার স্বরূপ বেরিয়ে আসে। কিন্তু এখনও নকল ডিগ্রিধারী বহু চিকিৎসক চুটিয়ে প্র্যাকটিস করছে। সোমবার দুর্গাপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ভুয়ো চিকিৎসকদের তালিকা লম্বা। কেউ ছাড় পাবে না।
গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, যাঁরা মানুষকে ঠাকাচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যদপ্তর অপারেশন শুরু করেছে। কেউ ছাড়া পাবেন না। যার যেটা ডিগ্রি সেটাই লিখতে হবে। বাড়তি কিছু লেখা যাবে না। বর্ধমান শহর ছাড়াও জেলার অন্যান্য প্রান্তেও বহু চিকিৎসক নিজেদের ইচ্ছেমতো ডিগ্রি লিখে প্র্যাকটিস করছেন। এজিনিস বেশিদিন চলবে না।