ফিলাডেলফিয়া, ৫ জুলাই: ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচ শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। সময় যত এগোচ্ছে ততই বেড়ে চলেছে পারদ। তেমনই এক হাইভোল্টেজ ম্যাচের সাক্ষী থাকলেন গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা। শেষ আটের টিকিট নিজেদের ঘরে আনতে ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ফ্রান্স বনাম প্যারাগুয়ে। ম্যাচের প্রথম থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। কিন্তু এমবাপে, ডেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেদের একের পর এক আক্রমণে বাধা হয়ে দাড়াচ্ছিল প্যারাগুয়ের গড়া পাঁচ ডিফেন্ডারের পাঁচিল। প্রথম থেকে আগ্রাসী মেজাজে খেললেও ২০ মিনিটের আগে কোনো শটই লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ফ্রান্সের খেলোয়াড়েরা। অবশেষে প্রথমার্ধে ০-০ ব্যবধানে শেষ করে উভয়ই টিম।
এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ায় ফ্রান্স। এমবাপেদের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডারেরা। ৫২ মিনিটে গোলকিপারের থেকে পাওয়া লম্বা পাস পেয়ে এমবাপ্পে একাই বল নিয়ে ছুটলেও শেষ মুহূর্তে গোল করতে বাধা দেয় প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডাররা। ৬৫ মিনিট পর্যন্ত ফ্রান্সদের খেলোয়াড়দের আটকে রাখতে সক্ষম ছিল প্যারাগুয়ে দল। কিন্তু অবশেষে দারুণ গতি পাসের ছন্দে বস্কের ভিতর ঢুকে এসে পৌঁছেছিল ফ্রান্স দলের দুই খেলোয়াড়। কিন্তু পেছন থেকে এশ দুই ফরাসি খেলোয়াড়কে ফেলে দেন প্যারাগুয়ের এক ডিফেন্ডার। ফলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। আর পেনাল্টিতে কোনো ভুল না করে শান্ত মাথায় নিচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ফরাসি অধিনায়ক এমবাপে। গোল হজম করার পর পারাগুয়ের একাধিক আক্রমণ করলেও গোল করতে বাধা পায় ফরাসি ডিফেন্সে। উল্টোদিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পায় ফ্রান্স। শেষের যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে এমবাপের পরপর দুটি শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার। তাঁর সেই জোড়া সেভ না হলে ফ্রান্সের ব্যবধান আরও বড়ো হতো। অবশেষে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ আটের টিকিট নিজেদের ঘরে আনলেন এমবাপে দল। শেষ আটে তাঁদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, ফলে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দুই শক্তিশালী দলের হাইভোল্টেজ দ্বৈরথের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।