সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: তৃণমূল কর্মী পরিচয় দিয়ে এলাকায় সরকারি জমি জবরদখল করে দোকান তৈরি হচ্ছে। কেউ বা নিয়ম ভেঙে ভূগর্ভস্থ থেকে জল তুলছে। আবার কেউ লাইটপোস্ট ঘিরে দোকান বানিয়ে ব্যবসা করছে। শনিবার শিলিগুড়ি পুরসভার টক টু মেয়র ফোন ইন লাইভ অনুষ্ঠানে মেয়র গৌতম দেবকে সরাসরি এই অভিযোগ করলেন ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অলোক দাস। তাঁর অভিযোগ, নৌকাঘাট মোড়ে জনৈক ভগবত নামে এক ব্যক্তি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা নিজেদের তৃণমূল কর্মী পরিচয় দিয়ে এই অবৈধ কারবার চালাচ্ছে।
এই অভিযোগ শুনে মেয়র সাফ জানিয়েদেন, নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কে তৃণমূল করে দেখব না, শাসকদলের প্রত্যেক কর্মীদের বার্তা দিতে চাই, সরকারের নিয়ম নির্দেশ মেনে চলুন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, দলমত নির্বিশেষে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। যে এলাকা নিয়ে অভিযোগ এসেছে সেখানে আমি নিজে পরিদর্শনে যাব। কেউ এ কাজ করে থাকলে তা বন্ধ করা হবে।
এদিকে এদিনও কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম লাগোয়া বিধান রোড জবরদখল নিয়েও মেয়র অভিযোগ পান। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম ঘেঁষে বিধান রোডের ড্রেনের উপর দোকান গজিয়ে ওঠা এবং রাস্তা দখল করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কুড়ানিদের নিয়ে এদিন ফের অভিযোগ আসে। স্টেডিয়ামের ফোসিন গেটে আটকে এই কাজ চলছে বলে অভিযোগ করেন ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সুজয় বিশ্বাস এবং ১১ ওয়ার্ডের ভাস্কর বিশ্বাস। তাঁরা এদিন ফোন করে মেয়রকে বলেন, গোষ্ঠপালের স্ট্যাচুর সামনে থেকে ফোসিন গেট পর্যন্ত নতুন নতুন দোকান গজাচ্ছে। কুড়ানিদের আবর্জনা জমায়েত করাকে ঘিরে সংলগ্ন বসতি এলাকায় চুরির উপদ্রব বেড়েছে।
মেয়র এক্ষেত্রেও করা পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই এলাকায় এধরনে অবৈধ সব দোকান তুলে দেওয়া হবে। কুড়ানিদেরও এখানে আবর্জনা মজুত করতে দেওয়া হবে না। তার জন্য পুলিসের পাশাপাশি পুরসভার নিজস্ব সিকিউরিটি গার্ড মোতায়েন করা হবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে মেয়র বলেন, কোনওভাবেই শহরের মধ্যে সরকারি জমি ও রাস্তা, ফুটপাত জবরদখল বরদাস্ত করা হবে না। পুরসভা এধরনের জবরদখল সরিয়ে দিয়েছে। তারপরেও আবার অনেক জায়গায় নতুন করে দোকান বসছে। সেই সব জায়গায় অভিযান চালাবে পুরসভা।