Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জেসপের সাইরেনে ঘুম ভাঙুক, কর্মসংস্থানে আসুক নবজোয়ার, ডবল ইঞ্জিনের কাছে দমদমের প্রত্যাশা

দমদমের জেসপ কারখানা পুনরুজ্জীবনের দাবি উঠেছে। স্থানীয় বিধায়কের আশ্বাস, শ্রমিকদের চাকরির প্রত্যাশা। বিস্তারিত পড়ুন।

জেসপের সাইরেনে ঘুম ভাঙুক,  কর্মসংস্থানে আসুক নবজোয়ার, ডবল ইঞ্জিনের কাছে দমদমের প্রত্যাশা
  • ১৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: সকাল, দুপুর ও বিকেলে জোরালো সাইরেনের আওয়াজ। তাতেই ঘুম ভাঙত বহু মানুষের। লম্বা চুল্লি দিয়ে বেরোত ধোঁয়া। বিভিন্ন শিফ্‌঩টে দফায় দফায় হাজার হাজার শ্রমিকের প্রবেশ-প্রস্থান। রাস্তার দু-ধারে হকারের সারি। বেচা-কেনায় গমগম করত গোরাবাজার। পা ফেলা দায় হত দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন চত্বরে। দমদমের জেসপ কারখানার সোনালি স্মৃতি আজও মানসপটে ভেসে ওঠে দমদমবাসীর। গত দু-দশকে গঙ্গা দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গিয়েছে। হাজারো চাপান-উতোর, ভোটের আগে কারখানা খোলার স্বপ্ন ফেরির বহু ইতিহাসের সাক্ষী দমদম। এবার রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার। ভোটের আগে জেসপ খোলার দাবিতে নতুন মঞ্চ তৈরি করে আন্দোলনে নেমেছিলেন আজকের বিধায়কও। দমদমবাসী চাইছেন ঐতিহ্যের জেসপ কারখানা দ্রুত সচল হোক। 

Advertisement

ইংরেজদের তৈরি জেসপ অধিগ্রহণ করেছিল ভারত সরকার। দমদমে প্রায় ১৭৫ বিঘা জায়গার উপর তৈরি এই কারখানায় রেলের ওয়াগন, ইএমইউ রেক প্রভৃতি তৈরি হত। মল রোডে এই কারখানার বিশাল জমির উপর শিক্ষানবিশ ইঞ্জিনিয়ারদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া দুর্গাপুরের কোকওভেনেও রয়েছে এই কারখানা। কিন্তু জেসপ঩ পরে রুগ্‌ণ হয়ে যায়। ২০০৩ সালে বিশেষ কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় এই কারাখানা চালু হলেও রুইয়া গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ তোলে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। ২০১০ সালে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সাসপেনশন ওফ ওয়ার্ক ঘোষণা করা হয় ২০১৩ সালে। 
এরপর ২০১৪ সালের আগস্টে মাসছয়েকের জন্য কারখানা খুললেও তালা পড়ে ফের। ২০১৬ সালে জেসপ অধিগ্রহণ বিল রাজ্য বিধানসভায় পাশ করিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়, তা আজও বিবেচনাধীন। কাজ হারানো শ্রমিকদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা মানবিক ভাতা এবং ইএসআইয়ের  ব্যবস্থাও করেছিল পূর্বতন রাজ্য সরকার। কিন্তু জেসপ কারাখানা খোলার স্বপ্ন আজও অধরা। অন্যদিকে, কারখানার সামগ্রী চুরি থেকে জমি বেদখল হয়ে  চলেছে প্রকাশ্যে। 
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জেসপ বাঁচাও মঞ্চ গড়ে আন্দোলনে নেমেছিল বিজেপি।  নেতৃত্ব দেন বর্তমান বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি। আন্দোলন থেকে স্লোগান উঠেছিল, ‘১৬ হাজার চাকরি চাও, জেসপের দিকে পা বাড়াও।’ জেসপ কারখানা ও তার বিপুল জমি রক্ষা করতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সম্পাদক তথা জেসপ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জেসপের পুনরুজ্জীবন দাবি করেছি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিবের কাছেও। জমি বেদখল রুখতেও কড়া পদক্ষেপ চাই। স্থানীয় বিধায়ক অবশ্য দ্রুত পদক্ষেপেরই আশ্বাস দিয়েছেন। 
বিধায়ক বলেন, জেসপের পুনরুজ্জীবন আমাদের মূল লক্ষ্য। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছি। ঐতিহ্যবাহী জেসপ বাঁচাবার ব্যাপারে তিনি আন্তরিক। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ