Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নাগরিকত্ব সংকটে ক্ষুব্ধ মতুয়ারা, সামাল দিতে আসছেন মোদি

ঠেলার নাম বাবাজি! হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বিজেপি।

নাগরিকত্ব সংকটে ক্ষুব্ধ মতুয়ারা, সামাল দিতে আসছেন মোদি
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঠেলার নাম বাবাজি! হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বিজেপি। এসআইআর এবং সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের জোড়া চাপে যখন নাভিশ্বাস অবস্থা, তখন বাংলায় মতুয়া ভোট পেতে আসরে নামতে হচ্ছে স্বয়ং নরেন্দ্র মোদিকে। তাও আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতুয়া-গড়ে সভা করার ১০ দিনের মধ্যে। জেলা সেই একই, নদীয়া।

Advertisement

এসআইআরের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের চারদিন পর, আগামী ২০ ডিসেম্বর রানাঘাটে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তাহেরপুরের হেলিপ্যাডে নামবে মোদির কপ্টার। তাহেরপুর মাঠে হবে রাজনৈতিক সমাবেশ। সেই সঙ্গে সরকারি প্রকল্পের কর্মসূচিও। গত ৪ নভেম্বর থেকে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই নিরিখে এটাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় মোদির প্রথম রাজনৈতিক সভা। আর সেজন্য যে সভাস্থল বাছাই করা হয়েছে, তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। রানাঘাট মতুয়া প্রভাবিত এলাকা হিসেবেই চিহ্নিত। ৪০ শতাংশের বেশি মতুয়া ভোট রয়েছে। ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রানাঘাট কেন্দ্রে জিতেছিল বিজেপি। ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনেও নদীয়া জেলার একাধিক বিধানসভায় পদ্মফুল ফোটাতে বাড়তি নজর দিয়েছিল গেরুয়া শিবির।
কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ার নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে মতুয়া সমাজ। নাগরিকত্ব থাকবে কি না, এই প্রশ্নেই এখন দিশেহারা তাদের একটা বড় অংশ। মতুয়া ভোটে বড়সড় ধাক্কা আসছে, সেটা বুঝতে পেরে সিএএ ক্যাম্প, হিন্দুত্ব কার্ড বিলি ও ফর্ম ফিল আপে জোর দেয় বিজেপি। কিন্তু পরের ধাক্কাটা যে আরও মারাত্মক হতে চলেছে, তা সম্ভবত বিজেপির তাবড় নেতারাও আন্দাজ করতে পারেননি। আর তা হল মতুয়া ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ। যেখানে সাফ জানানো হয়েছে, ‘আগে দেশের নাগরিকত্ব পান, তারপর ভোটার হবেন।’ স্বাভাবিকভাবে এতে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে বিজেপির থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করেছে মতুয়া সম্প্রদায়। সেই ক্ষোভ সামাল দিয়ে বিজেপির ভোটবাক্সে সমর্থন টানতে তাই সভা করতে হচ্ছে স্বয়ং মোদিকে। এসআইআরের আগে আলিপুরদুয়ার, দুর্গাপুর, দমদমে তিনি সভা করেছিলেন। আর এবার মতুয়াদের মন পেতে তিনি কী বার্তা দেন, তা নিয়েই কৌতূহল তুঙ্গে। 
যদিও একাজে গেরুয়া শিবিরকে পিছনে ফেলেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। এসআইআর চলাকালীনই গত ২৫ নভেম্বর বনগাঁ এবং ১১ ডিসেম্বর নদিয়ায় প্রতিবাদ সভা করে ফেলেছেন নেত্রী মমতা। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের অভয়বাণী দিয়েছেন, ‘নিশ্চিন্তে থাকুন। বাংলা থেকে কাউকে তাড়াতে দেব না।’ তাই মোদির সফর নিয়ে বিজেপি নেতারা যতই উচ্ছ্বসিত হোন না কেন, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘মতুয়ারা আতঙ্কিত। বিজেপিও ভয় পেয়ে গিয়েছে। তাই এবার মোদিকে আসতে হচ্ছে। কিন্তু লাভ হবে না। মতুয়া গড়ে ছাব্বিশে জোড়াফুলই ফুটবে।’ পালটা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আসছেন। কর্মীরা উজ্জীবিত হবেন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ