


সংবাদদাতা, বনগাঁ: সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের সই জাল করে মতুয়া সঙ্ঘের পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগ উঠল সাইবার কাফের মালিক এক দম্পতির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গাইঘাটা থানার ঠাকুরনগরে। বুধবার গাইঘাটা থানার পুলিস অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। অল ইন্ডিয়া মতুয়া সঙ্ঘের সম্পাদক বিজিতকান্তি মণ্ডলের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস তাদের পাকড়াও করে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম সবুজ মণ্ডল (৪১) ও মীরা মণ্ডল (৩৭)। বৃহস্পতিবার তাঁদের বনগাঁ আদালতে তোলা হলে অভিযুক্ত সবুজকে তিনদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। অভিযুক্ত মীরা মণ্ডলকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ঠাকুরনগরে ঠাকুরবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় একটি দোকান ঘরে সাইবার কাফে চালাতেন মণ্ডল দম্পতি। অভিযোগ, প্রায় দু’বছর ধরে এখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের সই জাল করে মতুয়া সঙ্ঘের পরিচয়পত্র তৈরি হচ্ছিল। সঙ্ঘের দাবি, টাকার বিনিময়ে কয়েকশো কার্ড তৈরি করেছেন ওই দম্পতি। বুধবার তাঁরা হাতেনাতে ধরা পড়ে। এরপর থানায় খবর দিলে পুলিস এসে অভিযুক্তদের আটক করে নিয়ে যায়। পরবর্তীকালে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি নদীয়ার বাসিন্দা প্রমথরঞ্জন বসুর নামেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মতুয়া সঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘ওই ঘর মমতা ঠাকুর ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে বসে আমার সই জাল করে মতুয়া সঙ্ঘের পরিচয়পত্র ও বিভিন্ন শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছিল। এটা উদ্বেগের বিষয়। পুলিস কড়া পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে প্রশাসনিক কাজে নিরাপত্তা থাকবে না।’ অপর মতুয়া সঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুর বলেন, ‘ওই জায়গাটি নোংরা অবস্থায় পড়েছিল। ওই গরিব দম্পতিকে ব্যবসা করার জন্য দিয়েছিলাম। কোনও ভাড়া নেওয়া হয় না। সেখানে কি হচ্ছিল জানি না। শান্তনু ঠাকুর আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। অভিযোগ সত্যি হলে পুলিস অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।’