সংবাদদাতা, বারুইপুর: তীব্র গরম বলে হাওয়া খেতে গ্রামের ধারে একটি ঝিলের পাশে ফলের বাগানে গিয়েছিলেন তিন যুবক। একটি খড়ের ঘরে বসে মোবাইল ঘাঁটছিলেন। আচমকা ডোরাকাটা কিছু চলে যাচ্ছে দেখতে পান। প্রথমে গুরুত্ব দেননি। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর দেখেন একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ঘুরছে। এরপর এক দৌড়ে গ্রামে ঢোকেন তিনজন। সবাইকে জানান, বাঘ ঢুকেছে। জায়গাটি হল কুলতলির দেউলবাড়ি পঞ্চায়েতের দক্ষিণ দুর্গাপুর কুমিরপাড়া গ্রাম। খবর পেয়ে সেখানে আসেন বনকর্মীরা। উপস্থিত হয় টাইগার কুইক রেসপন্স টিম। বাগানের ভিতর তল্লাশি চালিয়ে বাঘটিকে দেখতে পান তাঁরা। একদল মানুষকে দেখে গর্জন করে ওঠে বাঘ। কর্মীরা বেরিয়ে আসেন। তারপর তাঁরা জানান, বাঘ কম করে ছ’ফুট লম্বা। বনবিভাগের আধিকারিকরা পৌঁছে ঠিক করেন ফলের বাগান ও ধানখেত ঘিরে ফেলা হবে। দুপুরে বাগান থেকে বাঘের গর্জন শোনা গিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। আশ্চর্যজনক বিষয়, যে গ্রামে বাঘটি ঢুকেছে তার আশপাশে কোনও বড় জঙ্গল নেই। তাহলে কোথা থেকে বাঘ ঢুকল তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, মাতলা নদী ও কাঁসারির চক খাল ও বালির খাল সাঁতরে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে ওই বাঘ। বনদপ্তরের অনুমান, প্রাণীটি ঝড়খালি থেকে এদিকে চলে আসতে পারে। অন্য একটি সূত্র বলছে, চিতুরির জঙ্গল থেকে কৈখালি হয়ে এদিকে ঢুকেছে সে। শুক্রবার রাতে গ্রামের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। কয়েকটি জায়গায় বাঘের পায়ের ছাপও দেখা গিয়েছে। সাধারণত শীতকালে বাঘ লোকালয়ে চলে আসার ঘটনা ঘটে। কিন্তু প্রশ্ন, তীব্র গরমে জঙ্গল ছেড়ে গ্রামে কেন ঢুকল বাঘটি? বনবিভাগের কর্তারাও এখনও স্পষ্ট কারণ জানাতে পারেননি।



