সুব্রত ধর, মাটিগাড়া (শিলিগুড়ি): তিন দলের তিন শীর্ষ নেতা। শংকর মালাকার, আনন্দময় বর্মন ও ঝরেন রায়। প্রথমজন তৃণমূল কংগ্রেসের দলের রাজ্য সহ সভাপতি, দ্বিতীয়জন বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি, তৃতীয়জন সিপিএমের কৃষক সংগঠনের সম্পাদক। সংসদীয় রাজনীতির ময়দানেও পুরনো মুখ। মহারণ-২৬’এ মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁরা ফের প্রার্থী। তাঁদের ভাগ্য পরীক্ষা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, এবার এখানে সাংগঠনিক লড়াই হচ্ছে। কাজেই, কার সাংগঠনিক শক্তি বেশি, তা এবারের লড়াইতেই প্রমাণ হবে।
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের প্রার্থীদের মধ্যে ‘হেভিওয়েট’ শংকর। তিনি দীর্ঘদিন দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের সভাপতি, এআইসিসির সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তৃণমূলের রাজ্য সহসভাপতি। দু’বার তিনি এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ছাত্র, যুব এবং কংগ্রেসের হয়ে তিনি আন্দোলন করেছেন। মমতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। মমতা আবার কাছে টেনে নেওয়ায় তিনি অভিভূত। এই কেন্দ্র এবার দলনেত্রীকে উপহার দেওয়ার শপথ নিয়েছেন।
এখানকার আরএক প্রার্থী সিপিএমের ঝরেন রায়। তিনি ছাত্রাবস্থাতেই রাজনীতির আঙ্গিনায় পা দিয়েছেন। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান এবং ১৯৯৪ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত মহকুমা পরিষদের সদস্য। এরমধ্যে পাঁচ বছর সহকারী সভাধিপতি ছিলেন। তিনি প্রাদেশিক কৃষক সভার দার্জিলিং জেলা সম্পাদক। তিনি বলেন, এখানে আমাদের পরিস্থিতি ভালো। ভোটের ময়দানে খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ, চা শ্রমিকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।
এখানকার আরএক প্রার্থী বিজেপির আনন্দময় বর্মন। তিনি বর্তমান বিধায়ক। তিনি রাজনৈতিক পরিবারে মানুষ। তাঁর বাবা সুরেন্দ্রনাথ বর্মন বিজেপির জেলা সভাপতি ছিলেন। মা শকুন্তলা বর্মন ছিলেন গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। পেশায় শিক্ষকতা করলেও আনন্দময় দীর্ঘদিন বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি বলেন, গত বিধানসভা লোকসভা ভোটে এখানেই দলের মার্জিন ছিল সর্বাধিক। এবারও তাই থাকবে। তৃণমূল ও সিপিএম কিছু করতে পারবে না।
বালাসন, চামটা, পঞ্চানই, রক্তি প্রভৃতি নদীবেষ্টিত এই কেন্দ্র জেতার বিষয়ে তিন প্রার্থীই আশাবাদী। তিনজনই রাজনীতির ময়দানে পরিচিত মুখ। তাঁরা যাই বলুন না কেন, তাঁদের ভাগ্য পরীক্ষা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। স্থানীয়রা বলেন, তিনজনই সংগঠন গড়ার কারিগর। দল ও সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কাজেই, এখানে সাংগঠনিক শক্তির লড়াই হচ্ছে। ভোট ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই খেলা শুরু হয়েছে। এখন কে শেষ হাসি হাসবেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।