Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাটিগাড়ার প্রতারণা কাণ্ডের নেপথ্যে বিহারের ‘সোমবাবু’

মাটিগাড়ার প্রতারণা কাণ্ডের নেপথ্যে বিহারের ‘সোমবাবু’
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: মাটিগাড়ার প্রতারণা কাণ্ডের নেপথ্যে বিহারের ‘সোমবাবু’! চারদিন ধরে ঘটনার তদন্ত চালিয়ে এমন অনুমান করছে মাটিগাড়া থানার পুলিস। তাদের বক্তব্য, নেটওয়ার্ক ব্যবসার নাম করে স্বদেশ বর্মনকে জালে ফাঁসায় সোমবাবু। স্বদেশের মাধ্যমে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে তোলা টাকা ক্রিপ্টো কারেন্সিতে বিনিয়োগ করা হতো বলে সন্দেহ। এই কারবার চলত চিটফান্ডের আদলে। অন্যদিকে, প্রতারিত গ্রামবাসীরা যোগাযোগ করছেন মাটিগাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কৃষ্ণ সরকারের সঙ্গে। ধৃতের শাস্তির দাবি পুলিসের কাছে জানিয়েছেন প্রধান। 

Advertisement

চোপড়ার বাসিন্দা প্রদীপ সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ধৃত স্বদেশের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে পুলিস চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পেয়েছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে খবর, স্বদেশের আসল বাড়ি নকশালবাড়ির গোঁসাইপুরে। মাটিগাড়া-১ পঞ্চায়েতের পেলকুজোতে শ্বশুরবাড়ির কাছে থাকত। সেখানেই নেটওয়ার্ক ব্যবসার অফিস চালু করেছিল। ধৃতের টার্গেট ছিল মূলত রিকশচালক, টোটোচালক ও সব্জি বিক্রিতারা। চার মাসে গচ্ছিত অর্থ দ্বিগুণ করার টোপ দিয়ে অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের কাছ থেকে টাকা তুলত। বিহারের সোমবাবু নামে একজনের মাধ্যমে এই নেটওয়ার্কিং ব্যবসায় পা রেখেছিল বলে ধৃত জানিয়েছে। 
পুলিস অফিসাররা বলেন, বিহারের সোমবাবু নামে একজনের কথা জানিয়েছে ধৃত। ওই ব্যক্তির কাছেই ধৃত টাকা পাঠাত। তা ক্রিপ্টো কারেন্সিতে বিনিয়োগ করা হতো। কয়েক মাসের মধ্যে ধৃত প্রায় ১০০ জনের কাছ থেকে টাকা তুলেছিল। শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পশ্চিম) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, ওই ঘটনার তদন্তে বেশকিছু তথ্য মিলেছে। সেগুলি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ অভিযুক্ত স্বদেশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার চাউর হওয়ার পর শনি ও রবিবার পেলকুজোতের বেশকিছু বাসিন্দা মাটিগাড়া-১ পঞ্চায়েতের প্রধান কৃষ্ণ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এদিকে, ছেলেকে বাঁচানোর আর্জি নিয়ে গোঁসাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অমৃত সরকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্বদেশের বাবা। দুই পঞ্চায়েতের প্রধান বলেন, প্রতারণার ঘটনা কোনওভাবে বরদাস্ত করা যায় না। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি পুলিসের কাছে জানানো হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ