গড়াপেটা ময়দানের পুরোনো রোগ। চোখের পলকে বদলে যায় সমীকরণ। বটতলার আলো-আঁধারিতে ফিসফাস। পয়েন্ট দেওয়া-নেওয়ার খেলা দানা বাঁধে। মোবাইল ফোন কিংবা নেটযুগের আগেও নিখুঁত অঙ্কে চলত অপারেশন। কেমন ছিল সেসব দিন? এই নিয়েই শুরু হল বর্তমানের অন্তর্তদন্ত।
গড়াপেটা ময়দানের পুরোনো রোগ। চোখের পলকে বদলে যায় সমীকরণ। বটতলার আলো-আঁধারিতে ফিসফাস। পয়েন্ট দেওয়া-নেওয়ার খেলা দানা বাঁধে। মোবাইল ফোন কিংবা নেটযুগের আগেও নিখুঁত অঙ্কে চলত অপারেশন। কেমন ছিল সেসব দিন? এই নিয়েই শুরু হল বর্তমানের অন্তর্তদন্ত।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সন্ধ্যার ময়দান। হাওড়া ইউনিয়ন তাঁবুর চিলতে ঘরে জরুরি মিটিং! সাদা পাঞ্জাবিকে ঘিরে উদ্বিগ্ন কয়েকজন। টিমটিমে আলোয় চেনা যায় না অনেককেই। হলুদ ডায়েরির পাতায় অসংখ্য আঁকিবুকি। ক্লাবের তালিকা, পয়েন্ট, গোল পার্থক্যের নিখুঁত হিসাব। তালিকায় চোখ বুলিয়ে টেবিলের এক কোণ খুঁটতে খুঁটতে নির্দিষ্ট ক্লাবের পাশে ঢ্যাঁড়া দিলেন মধ্যমণি। বাইরে প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে বাজ পড়ল কড়কড় শব্দে। লাল কালির আঁচড়ে নির্ধারিত হল অবনমনের লিস্ট। সেই তালিকা বদলায় সাধ্য কার! আট কিংবা নয়ের দশকে এমনই লাল কালির দাপটে ত্রস্ত ময়দান। হাওড়া ইউনিয়ন টেন্টের অ্যান্টি চেম্বারে সাদা পাঞ্জাবি পরে বসে আছেন বেতাজ বাদশা। চোখে চোখ রাখার স্পর্ধা অপ্রধান ক্লাবের নেই।
কম্পিউটার, ল্যাপটপ তখন দূর অস্ত। ইন্টারনেট অলীক কল্পনা। জলকাদার ময়দান ফিক্সিংয়ের বদলে গড়াপেটায় সাবলীল। এ এক অন্য দুনিয়া। পয়েন্ট দেওয়া-নেওয়ার খেলা। আর তাতেই নাকি ‘পিএইচডি’ করেছিলেন তিনি। পুরনো হাওড়ার পার্বতী সিনেমার পাশে তাঁর দুর্ভেদ্য দুর্গ। সকাল থেকেই ভিড় জমত বৈঠকখনায়। কারও প্রয়োজন চাকরি। কেউ এসেছেন অবনমন বাঁচাতে। সমাজের বিভিন্ন স্তরে সাদা পাঞ্জাবির দুরন্ত যোগাযোগ। নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে চেষ্টা করতেন সাধ্যমতো। গ্রিল ও লোহার ব্যবসায় বিস্তর নামডাক। একটা সময় হাওড়া ইউনিয়নের জন্য জলের মতো টাকা ঢেলেছেন। এমন লোকই চায় ময়দান। সাদা পাঞ্জাবিও হাওড়া ইউনিয়নে আসর জমিয়ে বসলেন। প্রতি সন্ধ্যায় বসত দরবার। ময়দানি ঘুগনি, ঝাল আলুর দম সহযোগে অঙ্কের যোগ বিয়োগ। বিনিময়ে চাই নিবিড় আনুগত্য। ময়দানে টিকতে চাইলে ভোট দরকার। সাদা পাঞ্জাবির ভোটব্যাঙ্ক দাবিয়ে রাখত আইএফএ’কেও।
হাওড়া ইউনিয়নের ম্যাচ থাকলে গ্যালারিতে থাকবেনই থাকবেন। টেনশন কমাতে আঙুলের ফাঁকে জ্বলন্ত সিগারেট। পাটকলের চিমনির মতো অনবরত ধোঁয়া ছাড়তেন। ফুটবলার ম্যানেজ, রেফারি ধমকানো, কর্তা চমকানোর মতো ময়দানি কাজে চোস্ত সাদা-পাঞ্জাবির কোর টিম। বয়সভিত্তিক বাংলা দলে তাঁর কোটা মাস্ট। ব্যাপার দেখে এক কোচের মন্তব্য ছিল-‘এটা বাংলা দল না হাওড়া ইউনিয়ন!’ বিপ্লব ওখানেই শেষ। এর বেশি বাড়াবাড়ি সাহসে কুলোয়নি। ময়দানে তো সবাইকেই টিকে থাকতে হয়।