লখনউ: ঝড়-বৃষ্টি নেই। কিন্তু একানা স্টেডিয়ামে হল না ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের চতুর্থ টি-২০ ম্যাচে কাঁটা হয়ে বিঁধল কুয়াশা। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সাদা বল দেখতে পাওয়ার সমস্যা ক্রমশ বাড়ল।
আম্পায়াররা অবশ্য বারবার হাস্যকরভাবে পরিদর্শনে এলেন। কিন্তু তা যে লোক দেখানো, বুঝতে অসুবিধা হওয়ার নয়। গ্যালারি ভর্তি দর্শকরা যাতে ক্ষিপ্ত না হয়ে ওঠেন, সেজন্যই রাত সাড়ে ন’টা পর্যন্ত চলল পরিদর্শনের নাটক। অথচ, তার অনেক আগেই শিশিরের কারণে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল বাইশ গজ। ডিসেম্বরের প্রবল ঠান্ডায় উত্তর ভারতে যে রাতের বেলা কুয়াশা কমা অসম্ভব, তা যেন কেউ বোঝেন না!
আর সেজন্যই প্রশ্ন উঠছে এই সিরিজের ভেন্যু নিয়ে। মুল্লানপুর, ধরমশালার পর লখনউ— বছরের এই সময়ে কেন উত্তর ভারতেই দেওয়া হল ম্যাচ? ন্যূনতম ক্রিকেটবুদ্ধিও কি নেই বোর্ডকর্তাদের? অনায়াসেই তো দক্ষিণ ভারতের ভেন্যুতে দেওয়া যেত ম্যাচ। তাতে অন্তত কুয়াশার কারণে ম্যাচ বাতিল হয় না! অবশ্য বোর্ডের পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতিতে রোটেশন পদ্ধতিই গুরুত্বপূর্ণ, তাতে ম্যাচ না হলেই বা কি!
অতীতে নানা আজব কারণে বন্ধ থেকেছে বাইশ গজে ক্রিকেট। গত বছর সেঞ্চুরিয়নে এই দু’দলের টি-২০ ম্যাচই মাঠে পোকার আক্রমণে আধঘণ্টা বন্ধ ছিল। মৌমাছির হানায়ও একই ঘটনা ঘটেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম শ্রীলঙ্কার ম্যাচে। এমনকী, ক্রিজে শিখর ধাওয়ানের চোখে সরাসরি রোদ পড়াতেও থমকেছে খেলা। মুম্বইয়ে সূর্যগ্রহণের জন্য ভারত-ইংল্যান্ড টেস্টের রেস্ট ডে এগিয়ে আনা হয়েছিল ১৯৮০ সালে। ইংল্যান্ডে আবার তুষারপাতের জন্য খেলা বন্ধের উদাহরণও রয়েছে। মাঠে কখনও শজারু, কখনও সাপ ঢুকে পড়াও বাধা হয়ে উঠেছে। এই তালিকাতেই যোগ হল কুয়াশার নাম। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সও ছিল ভয়ধরানো, প্রায় ৪০০। হার্দিককে দেখা গেল মাস্ক পরে গা ঘামাচ্ছেন। কুয়াশা নয়, এ যেন ধোঁয়াশার খেলা।
এরই মধ্যে শুভমান গিলের পায়ের চোট নিয়ে বাড়ছে জল্পনা। মঙ্গলবার নেটে নাকি তিনি চোট পেয়েছেন। যদি এদিন খেলা হতো, তাহলে অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেন করতে দেখা যেত সঞ্জু স্যামসনকে। শুক্রবারও সম্ভবত খেলবেন না তিনি। অনেকেই মনে করছেন, সমালোচনার বিধ্বস্ত গিলকে আড়াল করতেই চোটের কাহিনি ছড়ানো হচ্ছে। এটাও পরিষ্কার যে ২-১ এগিয়ে থাকা ভারত সিরিজে অন্তত হারছে না।