নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কোন্নগরের কানাইপুরের তৃণমূল কংগ্রেস নেতার খুনে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতদের মধ্যে একজন স্থানীয় বাসিন্দা তথা অতীতের কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিশ্বনাথ দাস ওরফে বিশা। অন্য দু’জন ভাড়াটে খুনি বিশ্বজিৎ প্রামাণিক ও দীপক মণ্ডল। দীপককে বারাসাত ও বিশ্বজিৎকে শাসন থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। শনিবার ভোররাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওই দু’জনকে ধরা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই কানাইপুরের বিশা’র হদিশ পায় পুলিস। জানা গিয়েছে, বিশা তিনলক্ষ টাকা সুপারি দিয়েছিল তৃণমূল নেতা পিন্টু চক্রবর্তীকে খুন করার জন্য।
শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে চন্দননগর পুলিস কমিশনারেটের ডিসিপি অর্ণব বিশ্বাস, জমিবিবাদের তত্ত্বেই সিলমোহর দিয়েছেন। তবে ওই জমি বিবাদে সরাসরি বিশা যুক্ত ছিল, নাকি সে অন্যকারও কাছ থেকে সুপারি নিয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। এদিন অর্ণব বলেন, কোনও রাজনৈতিক বা অন্য কোনও ইস্যু ওই খুনের পিছনে এখনও পাওয়া যায়নি। জমি কেনাবেচার বিবাদের কারণেই পিন্টু চক্রবর্তীকে সুপারি কিলার দিয়ে খুন করা হয়েছিল। বিশাই সুপারি দিয়েছিল। তার দীর্ঘ অপরাধমূলক কাজের ইতিহাস আছে। সুপারি কিলাররা খুনের কথা স্বীকার করেছে। আরও কিছু তথ্য মিলেছে। সমস্তটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রিষড়া থেকে উত্তরপাড়া, ওই এলাকার একদা ত্রাস ছিল বাঘা নামে এক গ্যাংস্টার। একদা হুব্বা শ্যামলের মূল প্রতিপক্ষ। তবে গত বেশকিছু বছর ধরে তার তেমন সাড়াশব্দ আর পাওয়া যায় না। সেই বাঘার সঙ্গেই অপরাধমূলক কাজে হাত পাকিয়েছিল তার ভাই বিশা ওরফে বিশ্বনাথ। সুপারি কিলারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে ভিত্তিতে শনিবার তাকে নিমতা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।
সুপারি কিলাররা ধারাল অস্ত্র ব্যবহার করে নৃশংসভাবে পিন্টুবাবুকে খুন করেছিল। সেই নৃশংসতার কারণ নিয়েও তদন্তের পর্বে ধন্দ তৈরি হয়েছিল। পুলিসের তদন্তে উঠে এসেছে এক আশ্চর্য তথ্য। জানা গিয়েছে, পেশায় সুপারি কিলার হলেও বিশ্বজিৎ ও দীপক অন্য কোনও অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষ নয়। তারা কাটারি বা চপারের মতো অস্ত্রই স্বচ্ছন্দে ব্যবহার করতে পারে। কাটারির কোপে মৃত্যু নিশ্চিত করতে সঠিক আঘাত করা প্রয়োজন। সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতেই লাগাতার আঘাত করা হয়েছিল।
পুলিস জানিয়েছে, বুধবার খুন করা হলেও, সোমবার থেকেই বিশার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল ঘাতকরা। দফায় দফায় রেকি করে গোটা পরিকল্পনার মহড়া দেওয়া হয়েছিল। খুনের পরই এলাকা থেকে হেঁটে বেরিয়ে যায় ঘাতকরা। কিছুটা দূরেই বিশা একটি স্কুটি আগে থেকেই রেখে দিয়েছিল। তাতে করেই এলাকা ছাড়ে দুই ঘাতক।