Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দু’কোটি টাকার সাইবার প্রতারণায় মূলচক্রী ধৃত

তার বাড়ি কেরলে। ২১ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার করে আনার পর সে সাত দিনের পুলিশ হেপাজতে রয়েছে।

দু’কোটি টাকার সাইবার প্রতারণায় মূলচক্রী ধৃত
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে জল সরবরাহকারী সংস্থার এক কোটি ৯৮ লক্ষ সহ পূর্ব মেদিনীপুরে একাধিক সাইবার জালিয়াতির মাথাকে কেরল থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম শেখ মহম্মদ সফিক। তার বাড়ি কেরলে। ২১ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার করে আনার পর সে সাত দিনের পুলিশ হেপাজতে রয়েছে। হলদিয়া ওয়াটার সার্ভিস সংস্থার এক কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা ছাড়াও হলদিয়ার ভবানীপুর থানার বাড়সুন্দরার পূর্ণচন্দ্র সামন্তের সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা প্রতারণার ঘটনাতেও সে অভিযুক্ত। ধৃতকে জেরা করে বিস্ফোরক তথ্য হাতে পেয়েছেন তমলুকের সাইবার ক্রাইম থানার অফিসাররা। বিদেশে থাকা কেরলের বহু বাসিন্দার ন঩থি দিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার পর সেই অ্যাকাউন্টে সাইবার প্রতারণার টাকা সরানো হতো। তারপর হাওলার মাধ্যমে সেই টাকা বিদেশে চলে যেত। টাকা বিদেশে চলে গেলে ওই টাকা উদ্ধার করা যেত না।

Advertisement

২০২৫ সালে ২৫ জুন বিকাল ৪টা ৪৫মিনিটে হলদিয়া ওয়াটার সার্ভিস সংস্থার চিফ অপারেটিং অফিসার(সিওও) নিখিলকুমার মহন্ত একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পান। সেই মেসেজে নিজেকে ওই সংস্থার এমডি সৌরভ দাসপট্টনায়েক দাবি করে দ্রুত একটি অ্যাকাউন্টে এক কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা পাঠাতে বলেন। সাত পাঁচ না ভেবে নিখিলবাবু এবং সংস্থার আরেক ব্যাঙ্ক অপারেটর সেই টাকা ট্রান্সফার করে দেন। তারপর সৌরভবাবুকে ফোন করে টাকা পাঠানোর কথা জানালে তিনি আকাশ থেকে পড়েন। সংস্থার কর্তারা প্রতারণা চক্রের খপ্পড়ে পড়েছেন বুঝতে পেরে দ্রুত দুর্গাচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যেসব অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছিল সেগুলি হোল্ড করে দেয় পুলিশ। এক কোটি ৯৮ লক্ষ টাকার মধ্যে সেইসব অ্যাকাউন্ট থেকে এক কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ফোন নম্বরের সূত্র ধরে ওই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে কেরলের শেখ মহম্মদ সফিক এই ঘটনায় নাটের গুরু। এরপর ৫অক্টোবর হলদিয়ার ভবানীপুর থানার বাড়সুন্দরা গ্রামের পূর্ণচন্দ্র সামন্ত নামে একজন তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় পাঁচ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। স্টক মার্কেটিংয়ের বিনিয়োগের ৫০শতাংশ মুনাফার টোপ দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ শেখ মহম্মদ সফিকের নাম পায়। এরপরই তমলুক সাইবার ক্রা‌ইম পুলিশের একটি দল কেরলের ওই যুবককে গ্রেফতার করতে রওনা দেয়। স্থানীয় পুলিশ সেভাবে সহযোগিতা না করলেও তাকে গ্রেফতার করে আনে পুলিশ।
ধৃত যুবককে হেফাজতে নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। জানা গিয়েছে, বিদেশে থাকা কেরলের অনেক বাসিন্দার নথি দিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছিল ওই চক্রটি। তারপর দেশজুড়ে সাইবার প্রতারণার টাকা সেইসব অ্যাকাউন্টে সরানো হয়। দ্রুত সেইসব অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা বিদেশে চলে যেত। শেখ মহম্মদ সফিক গ্রেফতার হতেই তাকে হেফাজতে নিতে এখন তৎপর হয়েছে কেরল পুলিশ। সেখানেও সাইবার প্রতারণায় তার নাম পেয়েছে কেরল পুলিশ। যেকারণে নিজের রাজ্যের পুলিশও তাকে হেফাজতে নিতে চা‌ইছে। এজন্য কয়েকবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন কেরল পুলিশের অফিসাররা।
পূর্ব মেদিনীপুরের ডিএসপি(ডিইবি) শান্তব্রত চন্দ বলেন, দুর্গাচক থানা এবং সাইবার ক্রাইম পুলিশের দু’টি অভিযোগের ঘটনায় কেরল থেকে শেখ মহম্মদ সফিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে সাত দিনের হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ