নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে সাড়ে তিন ফুট উঁচু হওয়ায় একটু বৃষ্টিতেই আশপাশের এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। সেই জল দাঁড়িয়ে থাকছে দীর্ঘদিন। বন্ধ হয়ে গিয়েছে জল নিষ্কাশনের পথ। ফলে গত বর্ষায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষকে। সব মিলিয়ে আটটি পুরসভা এবং ১২টি পঞ্চায়েত এলাকার মানুষকে এই ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এই সমস্যার নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। যে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তারা আড়াইশো কোটি টাকার একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে। সেটি অনুমোদনের জন্য নবান্নে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ছাড়পত্র পেলেই কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।
ওই কমিটিতে রয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, পুলক রায়, রথীন ঘোষ, সুজিত বসু, সাংসদ পার্থ ভৌমিক, মুখ্যসচিব, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান সচিব, কেএমডিএ, সেচ ও পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা। তাঁদের তৈরি মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে নিমতা থেকে মুড়াগাছা পর্যন্ত চার কিমি রাস্তায় ১৮০ মিমি ডায়ামিটারের পাইপ বসানো হবে। প্রকল্পের এই অংশের সুবিধা পাবে পানিহাটি এবং উত্তর দমদম পুরসভা। এই দুই পুরসভা এলাকার নিকাশি জল সহজেই বেরিয়ে যাবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে মুড়াগাছা থেকে নোয়াই খাল পর্যন্ত একটি নিকাশি নালা তৈরি হবে। সেখানে দু’টি লিফটিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে পানিহাটি পুরসভা এলাকার নিকাশি জল নোয়াই খালে নিয়ে ফেলা হবে। তৃতীয় পর্যায়ে বারাকপুরের ওয়্যারলেস মোড় থেকে নীলগঞ্জ পর্যন্ত ৩.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ আরসিসি বক্স ড্রেন হবে। এটিও গিয়ে পড়বে নোয়াই খালে। এর ফলে বারাকপুরের রবীন্দ্রপল্লি, বারাকপুর স্টেডিয়াম এলাকা, জাফরপুর ও শিউলি পঞ্চায়েত এলাকার জল ওই নর্দমার মাধ্যমে বেরিয়ে যাবে। চতুর্থ পর্যায়ে ভাটপাড়ার মাদরাল থেকে পদ্মা খাল পর্যন্ত ৭.২ কিলোমিটার দীর্ঘ আরসিসি বক্স ড্রেন তৈরি করা হবে। ভাটপাড়া পুরসভা এলাকার নিকাশি জল ওই নর্দমার মাধ্যমে নিষ্কাশিত হবে। পঞ্চম তথা শেষ পর্যায়ে নৈহাটির সাহেব কলোনি মোড়ে একটি লিফটিং স্টেশন হবে। যার মাধ্যমে জমা জল সুকন্যা খালে গিয়ে পড়বে। নৈহাটি পুরসভা এলাকার সমস্ত জল এর মাধ্যমে বেরিয়ে যাবে।
এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হলে আড়াইশো কোটি টাকা প্রয়োজন। কেএমডিএ ইতিমধ্যেই বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে জমা করেছে। কেএমডিএ’র চেয়ারম্যান তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে খুব সুন্দর হয়েছে। তবে বেশি উঁচু হয়ে যাওয়ায় জল নিষ্কাশনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা আলোচনা করেই একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছি। তা মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। ছাড়পত্র মিললে আশা করছি, খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে পরবর্তী বর্ষায় জল জমার হাত থেকে মুক্তি পাবেন বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের মানুষ।