নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা না পেয়ে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন মহিলারা। বৃহস্পতিবার অশোকনগর ও মধ্যমগ্রাম পুরসভার সামনে একদল মহিলা তুমুল বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। অশোকনগরে বিক্ষোভ ঘিরে পুরসভার অভ্যন্তরেও উত্তেজনা ছড়ায়। চেয়ারম্যানের ঘরের সামনের দরজা ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পরে হাবড়া ও অশোকনগর থানার পুলিশ গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, স্টেটাসে আবেদন ‘অ্যাপ্রুভড’ দেখানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বদলে গিয়ে ‘ফারদার ভেরিফিকেশন’ দেখাচ্ছে। কারও কারও আবেদন বাতিল হয়েছে বাড়িতে তিনটি ঘর থাকার কারণে। তা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে অনেকের। অশোকনগরের বিক্ষোভকারী অনিমা দেবনাথ বলছিলেন, ‘স্বামীর সামান্য আয়ে সংসার চলে। অন্নপূর্ণার তিন হাজার টাকা পেলে ছেলের কলেজের পড়াশোনার খরচ কিছুটা হলেও সামলাতে পারতাম।’
মধ্যমগ্রাম পুরসভার সামনে সোদপুর রোড অবরোধ করেন মহিলারা। পুলিশের আশ্বাসে তাঁরা সরে গিয়ে পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে অভিযোগ জানান। একই ইস্যুতে বাদুড়িয়া বিডিও অফিসেও বিক্ষোভ হয়। কয়েকশো মহিলা এদিন বনগাঁ পুরসভার সামনেও বিক্ষোভে নামেন। পুরসভার গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা। এরপর পুরসভার সামনে স্কুল রোডে অবরোধও করেন তাঁরা। বেলা প্রায় ১.৩০টা পর্যন্ত অবরোধ চলে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনায়ও ছবিটা ছিল কমবেশি এক। অ্যাকাউন্টে তিন হাজার না ঢোকায় জেলার রাজপুর সোনারপুর এবং মহেশতলা পুরসভায় এদিন দুপুরে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। রাজপুর সোনারপুর পুরসভায় অনেকে আবার বলছেন, বাড়ি বাড়ি যাঁরা তথ্য যাচাই করতে গিয়েছিলেন, তাঁরা বেছে বেছে তৃণমূলের লোকজনের কাজ করেছেন। বাকিদের তথ্য যাচাই তাঁরা ঠিকঠাক করেননি। তাই তাঁরা টাকা পাচ্ছেন না। দুই পুরসভার চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তাঁদের হাতে কিছু নেই। যেমন যেমন ভেরিফিকেশন হচ্ছে, সেই ফর্মগুলি আপলোড হচ্ছে। টাকা পাঠানোর দায়িত্ব সরকারের। ভাঙড় ২ নং বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখান অনেক মহিলা। বারুইপুর পুরসভায়ও টাকা না পাওয়া বহু মহিলা ভিড় জমান এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।