Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাতিগত শংসাপত্র হাতাতে ভূরিভূরি ভুয়ো আবেদন

মহকুমা শাসকের অফিসের সামনে এক গোছা কাগজ নিয়ে দাঁড়িয়ে ক্রান্তি বাউরি। বাউরি সমাজের ওই নেতার দাবি, নকল জাতিগত শংসাপত্র তৈরি করতে দালালরা সিদ্ধহস্ত।

জাতিগত শংসাপত্র হাতাতে ভূরিভূরি ভুয়ো আবেদন
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: মহকুমা শাসকের অফিসের সামনে এক গোছা কাগজ নিয়ে দাঁড়িয়ে ক্রান্তি বাউরি। বাউরি সমাজের ওই নেতার দাবি, নকল জাতিগত শংসাপত্র তৈরি করতে দালালরা সিদ্ধহস্ত। আমরা বিষয়টি নিয়ে বারবার মহকুমা শাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। নকল শংসাপত্রের তালিকাও জমা করেছি। খোঁজ নিয়েই জানা গেল, মাসে গড়ে ৪৫০-৫০০টি আবেদন জমা হচ্ছে আসানসোল মহকুমা শাসকের অফিসে। সবার জাতিগত শংসাপত্র চাই। তারই মধ্যে মাসে ৫০-৬০টি ভুয়ো আবেদন প্রশাসনের নজরে আসছে। তাঁরা সেগুলি বাতিল করছেন। নতুন আবেদনপত্রগুলি খুঁটিয়ে দেখে জালিয়াতি করে নকল শংসাপত্র পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মহকুমা শাসকের অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে, শেষ এক বছরে ১৫জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এদের মধ্যে কেউ নকল শংসাপত্র দেখিয়ে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ নিয়েছে। কেউ আবার চাকরির নিয়োগপত্র পেয়েছে। তবে কাউকেই রেয়াত করা হচ্ছে না। নকল জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তেমনি ততটাই সক্রিয়, সঠিক জাতিগত শংসাপত্র পাওয়ার আবেদনগুলি নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে। জানা গিয়েছে, সঠিক আবেদন হলে দ্রুত জাতিগত শংসাপত্র ইস্যু করা হচ্ছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রর নকল জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। আসানসোল দক্ষিণ থানায় তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছিল মহকুমা প্রশাসন। তবে এই ঘটনা ব্যতিক্রম নয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নকল জাতিগত শংসাপত্রের ভূরিভূরি অভিযোগ আসছে। অভিযোগগুলি যাচাই করা হচ্ছে। জালিয়াতি করে শংসাপত্র বের করার প্রমাণ মিললেই প্রথমে শংসাপত্রটি বাতিল করা হচ্ছে। তারপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। শেষ এক বছরে এই সংক্রান্ত ১৫টি অভিযোগ দায়ের করেছে প্রশাসন। প্রশাসনের কঠোর মনোভাবের পরও জাতিগত শংসাপত্র হাতানোর চক্র সক্রিয়। জানা গিয়েছে, কখনও পদবি গোপন করে আবেদন করা হচ্ছে। কখনও আবার আবেদনপত্রে নামের পাশে পদবি ব্যবহারই করা হচ্ছে না। অনেকক্ষেত্রেই এমন পদবিধারীরা জাতিগত শংসাপত্রের আবেদন করছে, যা অস্বাভাবিক ঠেকছে প্রশাসনের কাছেও।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ