নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রবিবার বিকাল ৩টে। বারাসতের কলোনি মোড়ের নবপল্লি ব্যায়াম সমিতির কালীপুজোর মণ্ডপ। রোদ তখনও চড়া। কিন্তু তাতে কী! প্যান্ডেল হপিংয়ে বেরিয়ে পড়েছে অল্পবয়সিরা। কেউ বন্ধুদের দল, কেউ আবার এসেছেন প্রেমিক বা প্রেমিকার হাত ধরে। প্রতিমা দর্শনের ফাঁকে মোবাইলের ক্যামেরায় ছবি তোলা চলছে দেদার। কখনও মণ্ডপের সামনে, কখনও আলোকসজ্জার আবহে সেলফি। পছন্দের ফ্রেম খুঁজতে মণ্ডপ চত্বরে ঘোরাঘুরিও চলছে। কালীপুজোর প্রথম দিন দুপুর থেকেই বারাসতের রাস্তায় তারুণ্যের নজরকাড়া উপস্থিতি। বিকাল গড়াতেই বদলে গেল ছবিটা। জাতীয় সড়কজুড়ে মানুষের ঢল। এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে যাওয়ার তাড়া। বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করে নিচ্ছে পরবর্তী গন্তব্য। প্রেমিক-প্রেমিকারা ভিড়ের মধ্যেই হাত ধরে এগিয়ে চলেছে। আবার ভিড় থেকে একটু সরে দাঁড়িয়ে গল্পে মশগুল অনেক যুগলও দেখা গেল। ঠাকুর দেখা যেন উপলক্ষ্য, উৎসবের আলোয় একসঙ্গে ঘোরাটাই অনেকের কাছে বড়ো পাওনা।
বারাসতের বড়ো বাজেটের পুজোগুলিকে ঘিরে এদিন ছিল বাড়তি উন্মাদনা। নবপল্লি ব্যায়াম সমিতি, নবপল্লি অ্যাসোসিয়েশন, কে এন সি রেজিমেন্ট, পাইওনিয়ার পার্ক থেকে শ্রীকৃষ্ণপুর সাংস্কৃতিক চক্র— সর্বত্র দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। এবছরের অন্যতম আকর্ষণ শ্রীকৃষ্ণপুর সাংস্কৃতিক চক্রের কয়েক কোটি টাকা খরচে তৈরি মণ্ডপ। শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ আসছেন এই পুজো দেখতে। মণ্ডপের বিশালত্ব, প্রতিমা এবং আলোকসজ্জা ঘিরে কৌতূহল চোখে পড়ার মতো। শুধু বারাসত নয়, পড়শি মধ্যমগ্রামের পুজো মণ্ডপগুলিতেও কমবেশি একই ছবি। দুই শহর মিলিয়ে এ বছর কালীপুজোর সংখ্যা ২ হাজার ৬১৪। বড়ো বাজেটের পুজো ৩৯টি। মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমা ও আলোকসজ্জায় একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে উদ্যোক্তাদের মধ্যে। এই আবহে তাক লাগানো মণ্ডপসজ্জা আর চোখ ধাঁধানো আলো দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা।



